


ব্রুসেলস, ২২ অক্টোবর: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতারণা ও ঋণ খেলাপি মামলায় মূল অভিযুক্ত মেহুল চোকসিকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা যাবে। সম্প্রতি এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিল বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পের এক আদালত। গত ১১ এপ্রিল ওই হীরে ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে বেলজিয়াম পুলিশ। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক জানান, চোকসির গ্রেফতারি বৈধ। একইসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন চোকসি। কয়েকটি মহলে জল্পনা ছড়ায় ধৃত হীরে ব্যবসায়ীকে হয়তো এখনই ভারতে ফেরানো সম্ভব হবে না। তবে সেটি সঠিক নয় বলে জানা যাচ্ছে।
বেলজিয়ামের ওই আদালতের দেওয়া নির্দেশনামা খতিয়ে দেখেছে এক জাতীয় সংবাদমাধ্যম। তাতে বলা হয়েছে, চোকসি বেলজিয়ামের নাগরিক নন। তবে তিনি বিদেশি। তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণে কোনও আইনি বাধা নেই। যে অপরাধগুলি উনি করেছেন ভারতে যেমন- প্রতারণা, জালিয়াতি, ভুয়ো তথ্য ও নথি তৈরি, দুর্নীতি। এই সবকটির ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের আইন মোতাবেকও উনি অপরাধী। এই অপরাধগুলি করতে গিয়ে চোকসি কোনও দুষ্কৃতী দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। যেখানে জালি নথি তৈরি করেন দুর্নীতি করতে, যা খুবই ভয়ানক অপরাধ। এমনটাই জানাচ্ছে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পের এক আদালত। যদিও চোকসির একটি অপরাধের জন্য বেলজিয়ামে কোনও শাস্তি হবে না। সেটি হল তথ্য প্রমাণ লোপাটের। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে অপরাধগুলি করেছেন চোকসি। তাই ভারত কিংবা বেলজিয়াম দুই দেশেই অপরাধগুলি নিয়ে তদন্ত এখনও চলতে পারে।
এমনকি চোকসির দাবিরও কোনও তথ্যপ্রমাণ পায়নি আদালত। পলাতক ব্যবসায়ীর দাবি ছিল, তাকে জোর করে অ্যান্টিগুয়া থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভারতে গেলে অমানসিক অত্যাচার করা হতে পারে। যদিও বেলজিয়ামের আদালত তার সব দাবিই খারিজ করে দিয়েছে। মেহুল চোকসিকে ভারতে নিয়ে এলে কোথায় রাখা হবে তাও জানিয়েছে ওই আদালত। নয়াদিল্লির প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিচারক জানিয়েছেন, মেহুল চোকসিকে মুম্বইয়ের আর্থার রোডের জেলের ১২ নম্বর ব্যারাকে রাখা হবে। যার দৈর্ঘ্য হল ৪৬ স্কোয়ার মিটার। দুটি পৃথক সেল রয়েছে, আলাদা ব্যক্তিগত শৌচাগারও আছে। গত শুক্রবারই চোকসিকে ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে বেলজিয়ামের আদালত।