


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একদিকে বাসস্ট্যান্ডে জায়গার টানাটানি, অন্যদিকে রাস্তার পাশে বাস দাঁড় করালেই মোটা জরিমানা। আয় যেখানে দিনে সাকুল্যে কয়েকশো টাকা, সেখানে একবারেই পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ফাইন। এই পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস পরিষেবা বন্ধের উপক্রম হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন রামরাজাতলা-ধর্মতলা ৫২ নম্বর রুটের। বাস বন্ধ হলে সমস্যায় পড়বেন রামরাজাতলা, সাঁতরাগাছি মোড়, নেতাজি সুভাষ রোড সহ বিভিন্ন এলাকার নিত্যযাত্রীরা।
একশো বছরের পুরানো এই রুটের স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড রামরাজাতলায় বাম আমলে তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল আমলে বাসস্ট্যান্ডের উপর পাঁচতলা ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাসস্ট্যান্ডের সামনের অংশ দোকানের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে পুরো জায়গাটি এখন আর বাস রাখার কাজে ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন ট্রিপ শেষে সেখানে ১৬টি বাস রাখার জায়গা থাকলেও অন্তত তিনটি বাস রাস্তার ধারে রাখতে হয়। বাস মালিক ও কর্মীদের অভিযোগ, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বাজার বন্ধ থাকায় ওই সময় রাস্তায় যানজট কমে থাকে। ফলে একপাশে তিনটি সহজেই বাস রাখা যায়। কিন্তু গত এক সপ্তাহে দাশনগর ট্রাফিক গার্ড অন্তত চারটি বাসকে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে। তাঁদের দাবি, রুট পারমিট সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র বৈধ থাকলেও এই বিপুল জরিমানা কার্যত পরিষেবা বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বর্তমানে রুটের ১৯টি বাস বন্ধ হওয়ার মুখে। চালক, কনডাকটর ও খালাসি মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে।
বাসকর্মী লক্ষ্মী দাস, অর্ণব বাইন ও কৃষ্ণেন্দু সোমের অভিযোগ, দিনে চার-পাঁচটি ট্রিপ চালিয়ে যে সামান্য আয় হয়, তার উপর এই জরিমানার বোঝা চাপলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। তাঁদের আরও অভিযোগ, টোটোর সংখ্যা বাড়ায় শর্ট রুটে যাত্রী কমেছে।
বাস মালিক শান্তনু মান্না জানান, সোমবার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সমাধান না হলে পরিষেবা বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। জেলাশাসককেও লিখিত অভিযোগ জানানো হবে। তাঁর দাবি, শৈলেন মান্না সরণি, ডুমুরজলা, হাওড়া ময়দান, বঙ্কিম সেতু সহ শহরের বহু জায়গায় রাতে রাস্তার পাশে বাস থাকে। শুধু ৫২ নম্বর রুটে জরিমানা হলে পরিষেবা চালানো কঠিন। হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রাস্তায় বেআইনিভাবে বাস রাখা যায় না। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই জরিমানা করা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র