


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৫, মির্জা গালিব স্ট্রিট। এই ঠিকানায় থাকা হোটেলে কয়েকদিন আগে ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। প্রাণ গিয়েছে ন’জনের। ঘটনার পর যথারীতি তদন্ত শুরু হয়েছে। আর তাতেই জানা গেল, ওই ‘অভিশপ্ত’ বাড়িতে ইস্যু হয়েছে ৪০টি ট্রেড লাইসেন্স! আদৌ ওই বাড়িতে একসঙ্গে এতগুলি ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া যায় কি না, অগ্নি সুরক্ষাবিধি মেনে ব্যবসা চলছে কি না—কোনো বিষয়ই ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করার আগে বা পরে খতিয়ে দেখা হয়নি। তাহলে কি নজরদারির প্রশ্নে গোড়াতেই গলদ? প্রশাসনিক কাটাছেঁড়ায় প্রশ্ন উঠছে। পুর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’-এর আওতায় চটজলদি ট্রেড লাইসেন্স দিতে গিয়েই খামতি থেকে যাচ্ছে নজরদারিতে। পাশাপাশি তারা স্বীকার করে নিচ্ছে, কর্মীবলের অভাবও নজরদারির ক্ষেত্রে অন্তরায়। এই অবস্থায় গাফিলতি এড়াতে নিয়মকানুনে বদল জরুরি বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।
জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে মোট পাঁচটি ঠিকানা (১৫, ১৫জি, ১৫জে, ১৫কে, ১৫এল) মিলিয়ে ৪০টি ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হয়ে রয়েছে। বেশিরভাগ ট্রেড লাইসেন্সই বছর বছর পুনর্নবীকরণ হয়েছে। একটি বাড়িতে এতগুলি ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হল কীভাবে, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। পুর কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই বাড়ির বেশিরভাগ লাইসেন্স পুরানো। একটি বাড়িতে এতগুলি লাইসেন্স ইস্যু করতে কোনো আইনি বাধা নেই। কিন্তু তার জন্য সঠিক নজরদারি প্রয়োজন। অফিসারদের বক্তব্য, ২০২১ সালে ব্যবসায় উৎসাহ দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যে তথা কলকাতা পুরসভায়ও চালু হয় ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ পলিসি। অনলাইনে দিনের দিন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা শুরু হয়। কাগজপত্র অনলাইনে জমা করলেই সঙ্গে সঙ্গে লাইসেন্স ইস্যু হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কে কোন ঠিকানায় লাইসেন্স নিচ্ছে, সেটা পুরসভা দেখতে যায়নি। আগে কেউ ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন জানালে অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেন। কিন্তু অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে আগে ‘চেকিং’ করার সুযোগ থাকে না। শুধুমাত্র যিনি লাইসেন্স নিচ্ছেন, তিনি যে কাগজপত্র এবং আন্ডারটেকিং (মুচলেকা) জমা করছেন, তা বিশ্বাসযোগ্য ধরে নিয়ে লাইসেন্স দিতে হয়। এক্ষেত্রেও সেভাবেই হয়েছে। যদিও নয়া নীতিতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার শর্ত আছে। কিন্তু কর্মীবলের অভাবে সেই কাজও করতে পারেনি পুরসভা। এক পুরকর্তা বলেন, ‘আগেও নিয়মকানুন ভাঙা হত। কিন্তু অনলাইন হয়ে যাওয়ার পর অনিয়ম বেড়ে গেল। যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, হয়তো সেই ঠিকানায় কোনো সংস্থাই চলে না, কেউ হয়তো ভুয়ো কোম্পানি খুলে বসে আছে। কিংবা সম্পত্তির মালিক হয়তো জানেনই না যে তাঁর ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, প্রতি বছর কলকাতায় ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হয়। অথচ পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের কর্মী সংখ্যা মাত্র ১১৭। এই কর্মীবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক লাইসেন্স খতিয়ে দেখা সম্ভব নয়। তাই কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি নিয়মের ফাঁকগুলি পূরণ করা দরকার।