


সংবাদদাতা, সিউড়ি: এসআইআরে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। দলীয় কর্মীদের ওই সব ভোটারদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ রাজ্য তৃণমূল। ওই সব ভোটারদের নামের তালিকা রাজ্যকে পাঠাতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু করেছে ঘাসফুল শিবিরের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-২রা। সেই সব বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়াকে রাজনৈতিক ইস্যু করে সরব হতে চাইছে শাসক দল। এদিকে, এদিন এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রামপুরহাট-১ ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বেশকিছু বৈধ ভোটার। একই ইস্যুতে নলহাটি-১ ব্লক অফিসের সামনেও বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম।
শনিবার এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, এই জেলায় প্রায় ১১ হাজার ভোটারের নাম ডিলিট করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে অনেকে এমন রয়েছেন, যাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র রয়েছে। অথচ ভোটার তালিকায় তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিট’ লেখা হয়েছে। এমন ভোটারদের চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক তালিকা রাজ্যের কাছে পাঠাচ্ছে। সোমবারও রাজ্যের পক্ষ থেকে জেলা নেতাদের একটি নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ওই সমস্ত ভোটার যেন সমস্ত নথি নিয়ে দ্রুত ফর্ম-৬ জমা করে কমিশনের কাছে। সেই কাজে শাসক দলের বিএলএ-২রা যেন সহযোগিতা করে। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা রাজ্যের নির্দেশমতো এগোচ্ছি। আমরা বৈধ ভোটার ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছি।
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা মানুষকে ফর্ম-৬ পূরণ ও আবেদন করতে সহযোগিতা করছি। ইতিমধ্যেই আমাদের নেতা ও বিএলএদের সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তৃণমূল তো প্রথম থেকেই এসআইআরের বিরোধিতা করেছে। ওদের জন্যই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দিকে দিকে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। হাজার হাজার ভোটারের নাম বিচারাধীন করে দেওয়া হয়েছে। কাউকে আবার তালিকায় ডিলিটেড করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির নেতারা প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন, আদিবাসীরা মূলবাসী। তাঁদের নাম বাদ যাবে না। কিন্তু তারপরও বেশকিছু আদিবাসী বৈধ ভোটারের নাম হেয়ারিং ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এদিন রামপুরহাট পুরসভার ১, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ও মাসড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকজন আদিবাসী জড়ো হয়ে ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেশায় রাজ্য সরকারি কর্মী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার, মা ও স্ত্রীর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকলেও ছেলের নাম বিচারাধীন করে দেওয়া হয়েছে। নো ম্যাপিংয়ের জন্য ছেলে ও মেয়ে হেয়ারিংয়ের নোটিস দিয়েছিল। দু’জনের সমস্ত নথি জমা দিই। সেই নথিতে মেয়ের নাম উঠলেও ছেলেকে বিচারাধীন করে দেওয়া হল। এটা কী করে হয়? মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।