


নিউ ইয়র্ক, ৬ নভেম্বর: মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক বছরের মাথায় নিজের দেশে চরম ধাক্কা খেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। একইদিনে আমেরিকার তিনটি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে গো-হারান হারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ঘটনাচক্রে তিনটি ক্ষেত্রেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লজ্জায় ফেলেছেন তিন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচন নিয়ে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানিকে লক্ষ্য করে পূর্বেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন ট্রাম্প। অথচ ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন মামদানি। মেয়র নির্বাচনে মামদানি জিতলে তাঁর প্রশাসন নিউ ইয়র্ক শহরের জন্য অর্থবরাদ্দ করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প। যদিও নিউ ইয়র্কের জনতা ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে ঢেলে ভোট দিয়েছেন বাম ঘেঁষা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে। আর মামদানির জয় ঠিক যেন হজম করতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণে এবার নিউ ইয়র্কবাসীকে ‘ভয়’ দেখাতে শুরু করেছেন ট্রাম্প। গতকাল, বুধবার এক বাণিজ্য সম্মেলন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে সকলকে এই বলে সতর্ক করছি যে, আমাদের বিরোধীরা প্রাণপণে আমেরিকাকে কমিউনিস্ট কিউবা এবং সমাজতান্ত্রিক ভেনিজুয়েলায় পরিণত করতে চাইছে। আপনারা জানেন ওই সমস্ত জায়গায় কী হয়। আমি তো নিউ ইয়র্কে থাকতেই চাইব না। কারণ কমিউনিস্ট শাসনে আমি থাকতে চাই না। কিছুদিন পর দেখবনে নিউ ইয়র্কবাসীরা ফ্লোরিডাতে পালিয়ে যাচ্ছেন।’
জোহরান মামদানি বাম মনোভাবাপন্ন হওয়ায় তাঁকে ঘুরপথে আক্রমণ শানিয়েছেন রিপাবলিকান নেতা। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর আমেরিকার মানুষ আমাদের সরকারকে চেয়েছিল। সেদিন আমরা ভোটে জিতি। আমরা সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলাম তখন। গত রাতে নিউ ইয়র্কে আমরা কিছুটা সার্বভৌমত্ব খুইয়েছি। যদিও আমি বিষয়টি দেখে নেব।’ এই দেখে নেওয়ার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাহলে কী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়ায় এবার সেখানকার আর্থির অনুদানে কোপ বসাবে ট্রাম্প প্রশাসন? সেই আশঙ্কাই দেখা দিচ্ছে ক্রমশ।