


নিউ ইয়র্ক: দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক বছরের মাথায় নিজের দেশে চরম ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একইদিনে আমেরিকার তিনটি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে গো-হারান হারল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ঘটনাচক্রে তিনটি ক্ষেত্রেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লজ্জায় ফেলেছেন তিন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচন নিয়ে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানিকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন ট্রাম্প। অথচ ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন মামদানি। ট্রাম্পের লজ্জা বেড়েছে ভার্জিনিয়া ও সিনাসিনাটির নির্বাচনেও। ভার্জিনিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন গজলা ফিরদৌস হাশমি। এই প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলিম মহিলা এই পদে বসতে চলেছেন। আর সিনসিনাটি শহরের মেয়র পদে দ্বিতীয়বার জন পেলেন আফতাব পুরেভাল। ২০২১ সালে তিনিও প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে সিনসিনাটির মেয়র হয়েছিলেন। ছেলের জয়ে খুশি মীরা নায়ার। মামদানির ছবি শেয়ার করে বিখ্যাত এই পরিচালক লিখেছেন, ‘জোহরান, ইউ বিউটি’।
মেয়র পদে ৩৪ বছর বয়সি মামদানির জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই তাঁকে ‘উন্মাদ কমিউনিস্ট’ বলে আক্রমণ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি, মামদানি নিউ ইয়র্কের মেয়র হলে শহরের জন্য অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাঁর যাবতীয় হুমকি উড়িয়ে দিয়েছেন নিউ ইয়র্কবাসী। নির্দল হিসেবে লড়াই করা অপর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো পেয়েছেন ৪১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। আর ট্রাম্পের দলের প্রার্থী কুর্তিস স্লিওয়া থেমে গিয়েছেন মাত্র ৭.১ শতাংশ ভোটেই।
জয়ের পর বক্তৃতা দিতে গিয়ে মামদানি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টে জওহরলাল নেহরুর ভাষণের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন. ‘আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে নেহরুর কথা মনে পড়ছে। এমন দিন খুব কমই আসে। আজ রাতে আমরা পুরোনো থেকে বেরিয়ে নতুনের দিকে পা রাখলাম।’ ট্রাম্পকেও পালটা আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি। মামদানি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমি জানি আপনি দেখছেন। আপনার জন্য চারটি শব্দ বলব, আরও জোরে চিত্কার করুন। নিউ ইয়র্ক দেখিয়ে দিয়েছে, কী করে ওঁকে হারাতে হয়। এই রাজনৈতিক অন্ধকারের যুগে, নিউ ইয়র্ক শহর আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে।’ পরে নিউ ইয়র্কবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে মামদানি লেখেন, একসঙ্গে আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি। এবারে কাজ করা যাক।
তবে চুপ থাকেননি ট্রাম্পও। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘তাহলে শুরু হয়েই গেল।’