


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তাঁরা সিভিল ডিফেন্সের কর্মী। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সঙ্গে কাজ করেন। আদতে তাঁরা দু’জনেই রাজপুর সোনারপুর পুরসভায় কর্মরত। জনগণনার কাজে তাঁদের ইনিউমারেটর করা হয়েছে। অফিস সামলে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করে গণনার কাজ শেষ করেছেন সিভিল ডিফেন্সের দুই কর্মী শুভ্রেন্দু নস্কর এবং বিশ্বনাথ কর্মকার। কয়েকদিন আগেই তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনার কাজ করে ফেলেছেন। অনেক জায়গায় যখন এখনও বহু ইনিউমারেটর কাজে নামতে পারেননি, তখন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শুভ্রেন্দু ও বিশ্বনাথ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পুরসভা জনগণনার কাজে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় সব থেকে পিছিয়ে। কারণ অনেক শিক্ষক যাঁদের গণনাকর্মী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা এখনও কাজই শুরু করেননি। শনিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজপুর সোনারপুর পুরসভা এলাকায় ৮৬৭টি হাউজ লিস্টিং ব্লকের মধ্যে ৬৪৩টিতে কাজই শুরু হয়নি।
জানা গিয়েছে, বিশ্বনাথবাবুর দায়িত্ব পড়েছিল ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌহাটি এলাকায়। তাঁর অধীনে ছিল ১০০টি বাড়ি। তিনি বলেন, সকালে অফিসের কাজ করতাম। কখনও বিপর্যয়ের মতো ঘটনা ঘটলে সেখানে গিয়েও কাজ করতে হত। অনেক বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তাঁদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করে সেই বাড়ির তথ্য আপলোড করেছি। ওই ওয়ার্ডেরই পেয়ারাবাগানের একটি অংশে প্রায় দেড়শো বাড়ির দায়িত্ব পড়েছিল শুভ্রেন্দুবাবুর উপর। তিনিও একইভাবে অন্যান্য কাজ সামলে এই বিরাট কর্মকাণ্ড সেরেছেন। পুরসভা জানিয়েছে, তাঁরা আপৎকালীন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। অফিসের আর পাঁচটা দায়িত্ব সামলে সময় বের করে তাঁরা জনগণনার কাজ শেষ করে ইতিমধ্যেই সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র