


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পাশ হল পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিল। এখন রাজ্যপাল ওই বিলে স্বাক্ষর করলেই আর্থিক ক্ষমতা হারাবেন পঞ্চায়েত প্রধানরা। সেই সঙ্গে টানা ১৫ দিন প্রধানরা পঞ্চায়েত অফিসে না এলে প্রশাসক বসানোর অনুমোদন পাবে রাজ্য। পাশ হওয়া বিল অনুযায়ী, প্রধান-উপপ্রধানের অনুপস্থিতির কারণে দু’মাস গ্রামসভার বৈঠক ডাকা না হলে সেই ক্ষমতা যাবে সরকারি আধিকারিকের হাতে। কিন্তু কেন এই সংশোধনীর প্রয়োজন পড়ল? পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘গোটা দেশে একমাত্র বাংলাতেই আর্থিক ক্ষমতা ছিল পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে। তাঁরা না এলে পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতে এই পদক্ষেপ।’ সেই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে পঞ্চায়েত ভোটের সময় ব্যাপক অশান্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রীর দাবি, এই সংশোধনীর ফলে রাজ্যে হিংসাবিহীন পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের অনেকে পঞ্চায়েতে জিতলেও পরিস্থিতি এমন ছিল যে তাঁদের পার্শ্ববর্তী রাজ্যে লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল। মহিলাদেরও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছিল। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করবে এই সংশোধনী।’
পূর্বতন সরকারের আমলে বড়ো অংশের পঞ্চায়েত প্রধানের দুর্নীতিতে জড়িত থাকাছিলেন বলে অভিযোগ। সে প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘আসল লক্ষ্যই ছিল কাটমানি খাওয়া। অনেকে ঋণ নিয়ে পঞ্চায়েতের টিকিট কিনেছিলেন। তাঁদের এখন মাথায় হাত। মেয়াদ ফুরোতে এখনও ২ বছর বাকি। তার আগেই আর্থিক ক্ষমতা চলে যাওয়ায় এত আপত্তি।’
এদিন এই সংশোধনীর উপর বিতর্কে অংশ নিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পঞ্চায়েতের পরিষেবা অব্যাহত রাখতে এই সংশোধনী আবশ্যক।’ বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি প্রশাসকদের মেয়াদ ৩০ দিনের বদলে ৬০ দিনের করার কথা বলেন। তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান সংশোধনীর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘স্বচ্ছতা চাই, কিন্তু প্রধানদের ক্ষমতা চলে যাবে, এটা চাই না। প্রশাসক বসিয়ে ঘুরপথে পঞ্চায়েতগুলিকে সরকার সম্পূর্ণভাবে নিজের হাতে নিতে চাইছে।’