


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বিশ্ব ক্ষমতা অলিন্দের গতিপ্রকৃতির দ্রুত পট পরিবর্তন হচ্ছে। রীতিমতো শঙ্কায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। এই আবহেই আজ, মঙ্গলবার রাশিয়া, চীন এবং ইরান—এই ত্রিশক্তির নৌযুদ্ধ মহড়া হতে চলেছে ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এই মহড়ায় হাজির থাকছে,আজারবাইজান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওমান, কাজাখস্তান, কাতার, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান। বিষয়টি সবথেকে বেশি অস্বস্তিতে ফেলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের সংঘাত। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই রাশিয়ার উদ্দেশে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবকে বিশ্বাস না করে উল্টে বিশ্বস্ত বন্ধু ইরান ও চীনকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের সাগরেই নৌযুদ্ধ মহড়া শুরু করছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। এমনকী পাকিস্তান পর্যন্ত আমেরিকাকে ছেড়ে নাক গলাচ্ছে এই শিবিরে। আমেরিকা কার্যত একঘরে। ট্রাম্প ক্রমেই একা হচ্ছে।
এর আগেও অবশ্য এই তিন শক্তি হাত মিলিয়ে এরকম মহড়া দিয়েছে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই তাঁর রাশিয়া নীতি গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছে। মস্কোর উদ্দেশে তিনি শুধু মিত্রতার বার্তা দেননি, এমনকী প্রতিপক্ষ বানিয়েছেন এতকালের মার্কিন-বন্ধু ইউরোপকে। জানিয়েছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনের প্রতি তাঁর সমর্থন রয়েছে। ইউক্রেনের আনা প্রস্তাবে একজোট হয়ে বিরুদ্ধাচারণ করেছে আমেরিকা এবং রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো অপমান করা হয়েছে ওভাল অফিসে। পুতিনের ক্রেমলিন বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘আমেরিকা আমাদের মতাদর্শেই এখন সম্মত হয়েছে। এটা ভালো লক্ষণ।’ সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছিল আমেরিকা হঠাৎ রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে চিরকালীন শীতল যুদ্ধ থেকে সরে আসছে। কিন্তু সেই জল্পনায় চোনা ফেলে দিয়েছে ইরান-চীনের সঙ্গে মস্কোর নৌ-মহড়া। আর তা বস্তুত আমেরিকাকেই কঠোর বার্তা দিচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু অস্ত্রসম্ভার তৈরি করার অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। এই নিয়ে বারবার হুঁশিয়ারিও দিয়ে চলেছে হোয়াইট হাউস। এমনকী ইরানে ঢুকে হামলা চালিয়েছে মার্কিন-বন্ধু ইজরায়েল। ইরানের আমন্ত্রিত অতিথি হিজবুল্লা নেতাদের হত্যা করেছে মোসাদ। সুতরাং, ইরান বনাম আমেরিকার মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে। অথচ ট্রাম্প যে রাশিয়ার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছেন, তারা সেই ইরানের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখছে। ট্রাম্পকে বিশ্বস্ত বন্ধু ভাবছেই না। বরং ইরান, চীনকে নিয়ে ত্রিশক্তি নির্মাণ করে নৌযুদ্ধের মহড়ায় নামছেন পুতিন, যা আমেরিকাকে একপ্রকার একা করে দিচ্ছে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই তাচ্ছিল্য ও উপেক্ষা করেছে ইউরোপকে। ইলন মাস্ক রবিবারও বলেছেন, আমেরিকার উচিত ন্যাটো থেকে বেরিয়ে আসা। কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী আরও একধাপ এগিয়ে মার্কিন বিরোধী অবস্থান ঘোষণা করেছেন। এমতাবস্থায় প্রকাশ্যে অন্তত আমেরিকার পাশে কেউ নেই। এই পরিস্থিতিতে ভারত কী ভাবছে? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কী অবস্থায় আছে? আমেরিকা শুল্ক যুদ্ধে ভারতের অবস্থান কী? এসব প্রশ্ন তুলে এবার সংসদে আলোচনা এবং সরকারের বিস্তারিত বিবৃতি চাইছে বিরোধীরা।