


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: ভিআইপি রোডের হলদিরাম চত্বরে সামান্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হলেই জল জমে। সার্ভিস রোডে নৌকা চলাচলের মতো অবস্থা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। সোমবার দুপুরে দু’ঘণ্টার মতো বৃষ্টিতে দু’দিকের সার্ভিস রোডের কার্যত বানভাসি অবস্থা। এর পাশাপাশি ভাসল অভিজাত উপনগরী সল্টলেকও। শহরের একাধিক রাস্তা জলমগ্ন। ব্রডওয়ে পর্যন্ত জলে ডুবে। জল নামতে নামতে বিকেল। টানা দুর্ভোগের মুখে পড়েন নাগরিকরা। এর পাশাপাশি কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরেও জল থইথই দশা। জমা জলের কারণে দুপুর ১টা ২০ থেকে ৩টে ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ১৪টি বিমান নির্দিষ্ট সময় ওঠানামা করতে পারেনি। বিমানবন্দরের প্রবেশপথে জল জমে যাওয়ায় যাত্রীদের ঢুকতে-বেরতে সমস্যা হয় বলে অভিযোগ।
তবে এদিন সবথেকে করুণ চিত্র দেখা গিয়েছে সল্টলেকে। স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেটের তিনদিকের রাস্তা কার্যত নদীর চেহারা নেয়। গাড়ি যাতায়াত করলে ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়েছে জল। পথচারীদের হাঁটুর উপর জল উঠে যায়। করুণাময়ী মোড়েও হাঁটুজল। যা ফুটপাতের উপর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। মানুষকে হাঁটতে চলতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। গাড়ি যাতায়াত করলে জলে চুপচুপে হয়ে যেতে হয়েছে অনেককে বলে অভিযোগ ওঠে। ব্রডওয়ের একাধিক জায়গাতেও জল জমে যায়। জি ডি বাস টার্মিনাসের সামনের এলাকা জলমগ্ন। বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, আগে এত জল জমত না। নিকাশি ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় এরকম অবস্থা দাঁড়িয়েছে। শীঘ্র নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। না হলে এই দুর্ভোগ বাড়তে থাকবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জল বের করতে বিকেলে মধ্যে একাধিক রাস্তার ধারে থাকা গালিপিটের মুখ সাফ করার কাজ হয়েছে। কোথায় কোথায় নিকাশির সমস্যা আছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে দু’ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কলকাতা শহরের উত্তর ভাগে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, মানিকতলা সহ ই এম বাইপাসের একাংশ ও ট্যাংরা, বেলেঘাটার বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে যায়। ব্যাহত হয় যান চলাচল। একই পরিস্থিতি তৈরি হয় দমদমের চিড়িয়ামোড়, সিঁথি, দমদম রোড ইত্যাদি অঞ্চলে। বরানগরেও ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাস্তায় জমে যায় জল। নিজস্ব চিত্র