


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার মন্তব্য করেছিলেন, ‘যাদবপুরে কিছুই হয়নি।’ আর মঙ্গলবারই সম্পূর্ণ উলটো সুর শোনা গেল উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। এদিন নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে ইউজিসির একটি কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যাদবপুরের ঘটনাবলিকে ‘নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করলেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার আহ্বানও জানালেন। এও অবশ্য উলটো সুরই। কারণ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যাদবপুরে সব স্বাভাবিকই রয়েছে।
এদিন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যাদবপুর উচ্চশিক্ষা, উৎকর্ষ এবং গবেষণার পীঠস্থান। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অতীতের সুনামকে বজায় রেখে ভবিষ্যতে এই সুনাম আরও বাড়িয়ে নিয়ে যাক, এটাই কাম্য। সেই সুনামের জন্য যা যা অন্তরায় রয়েছে, তা যাদবপুরকেই টপকাতে হবে।’ তাঁর বক্তব্য, ‘যাদবপুরে প্ররোচনা, প্রতি প্ররোচনা, সেই প্রতি প্ররোচনার প্রতিক্রিয়ায় যা ঘটেছে, তা নিন্দনীয়। যাদবপুরের নাম দেশ তথা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। তার জন্য ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক, সব পক্ষের কাছেই আবেদন—যাদবপুরের মর্যাদা বজায় রাখতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেখানে স্বাভাবিকতা ফিরুক।’ তিনি যোগ করেন, উটকো-ছুটকো ঝামেলায় জড়িয়ে যাদবপুর যেন নিজের সুনাম ক্ষুণ্ণ না করে। পালাবদলের পরে যাদবপুরকে সেন্টার অব এক্সেলেন্সের তকমা দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। সেই লক্ষ্যেই যেন যাদবপুর এগিয়ে যায়। এরইমধ্যে অবশ্য যাদবপুরের দেওয়ালচিত্রের ‘বিতর্কিত’ ভিডিয়ো রাষ্ট্র এবং দেশবিরোধী বলে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন। তবে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সাফ বলেছেন, এই বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।
অন্যদিকে, এদিন যাদবপুর ক্যাম্পাসে গিয়ে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সোমবার সব পক্ষের বৈঠক থেকে বেরনোর সময় পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তিনদিনের ছুটিতে রয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, তাঁরা ফের একবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান। কারণ, সোমবারের বৈঠকে অনেক কিছুই আলোচনা করা যায়নি, বা সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। ২৭ আগস্ট নয়া তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা। এই কমিটির মাথায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়।