


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীপুজো-দীপাবলির আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে শব্দবাজির দাপট। এদিকে প্রশাসনের নিয়ম হল, কালীপুজোর দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা শুধুমাত্র সবুজবাজি পোড়ানো যাবে। পরিবেশ কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে শহরের চারটি বৈধ বাজি বাজারের অনুমতি কীভাবে ২১ তারিখ পর্যন্ত দেওয়া হল? তাঁদের আরও অভিযোগ, পাড়ায় পাড়ায় বাজির দোকান বসে গিয়েছে। ফলত, সেখান থেকে দেদার বিক্রি হয়েছে বাজি। খবর মিলেছে, শহিদ মিনার বাজি বাজারে আজ, মঙ্গলবার দুপুর ২টো পর্যন্ত কয়েকটি দোকানই খোলা থাকবে। আবার অন্য একটি বাজি বাজারের উদ্যোক্তার কথায়, আমাদের ২১ তরিখ পর্যন্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা কেন ২০ তারিখ বন্ধ করব?
পরিবেশ কর্মীদের সংগঠন ‘সবুজ মঞ্চ’-এর সম্পাদক নব দত্ত বলেন, ‘যথেচ্ছ ভাবে বাজি ফাটানো হচ্ছে। কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজি বাজার ছাড়িয়ে পাড়ায় পাড়ায় বারুদের স্তূপ তৈরি হয়েছে। পাড়ার অলিগলিতে দোকান বসেছে। সেখানে তুবড়ি, বোম সবই বিক্রি হচ্ছে। কারও কোনও হুঁশ নেই।’ এক বাজি উদ্যোক্তার কথায়, ‘এটা ঠিকই যে, পাড়ায় পাড়ায় বাজির প্রচুর দোকান বসেছে। সেজন্য আমাদের ব্যবসাও একটু কমেছে। এটা তো পুলিশের দেখার কথা ছিল। আমরা বহুবার বলেছি।’ কিন্তু ২১ তারিখেও কেন বাজি বাজার বসবে? এক উদ্যোক্তা বলছিলেন, ‘ছটপুজো তো আছে। তার জন্য মানুষ কিনতে পারেন।’ কিন্তু অন্য এক বাজি বাজারের উদ্যোক্তার কথায়, ‘এটা মনে হয় একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। হতে পারে, সোমবারই শেষ বাজি বাজার বসল।’
সমস্যা আরও রয়েছে। এই বছর বাজি বাজারে যে বাজিগুলো বিক্রি হচ্ছে, তার মধ্যে কিছু বাজিতে নিরি-র দেওয়া কিউআর কোড রয়েছে। কিছু বাজিতে কিউআর কোড নেই। পরিবেশ কর্মীদের প্রশ্ন, তাহলে পুলিশ যে এত বাজি বাজেয়াপ্ত করছে, সেগুলো কীসের ভিত্তিতে? এক্ষেত্রে পুলিশের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা নিরি-র একটি তালিকা রয়েছে। যেখানে বৈধ প্রস্তুতকারকদের তালিকা রয়েছে। আমরা দেখে নিচ্ছি, বাজিগুলো সেই তালিকাভুক্ত কি না। এছাড়া যারা ৩০-৪০ কেজি বাজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, বুঝতে হবে তাঁরা কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্যই এই বাজি কিনছেন। তখনই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।