


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: রাজ্যের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে বিজ্ঞান বিষয়ে তাঁদের উৎসাহ বাড়াতে মাসিক স্কলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়। তৈরি হয়েছিল ‘জগদীশচন্দ্র বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ’ বা জেবিএনএসটিএস। ৫৬ বছর ধরে চলা এই প্রতিষ্ঠানে ফি-বছর নির্দিষ্ট সময়ে আবেদনপত্র জমা নেওয়া ও পরীক্ষা হয়ে আসছে। বিগত সরকারের আমলে এই প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিদ্যাসাগর সায়েন্স অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে মাধ্যমে নবম শ্রেণি থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাসিক বৃত্তি দেওয়া চালু হয়। স্বভাবতই রাজ্যের দুঃস্থ মেধাবীরা ‘পাখির চোখ’ করে এই প্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপ পরীক্ষাকে। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর পরীক্ষা দূরের কথা, এখনও পরীক্ষার আবেদনপত্রই বেরয়নি। তাই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ স্কুলপড়ুয়া ও অভিভাবককূল উদ্বিগ্ন।
১৯৫৮ সালে জগদীশচন্দ্র বসুর জন্মশতবর্ষে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় ও স্যার জাহাঙ্গীর গান্ধী জেবিএনএসটিএস তৈরি করেন। ১৯৬০ সাল থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হয়। প্রথমে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর স্নাতকস্তরে পাঠরত মেধাবীদের (সিনিয়র বিভাগ) জন্য মাসিক বৃত্তি চালু হয়েছিল। বাছাই ১০০ পড়ুয়াকে মাসিক চার হাজার টাকা করে চার বছর দেওয়া হয়। বই কিনতে দেওয়া হয় বছরে ৫ হাজার টাকা। এই টাকা মার্চ মাসে এককালীন দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে এই সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরও (জুনিয়র বিভাগ) বৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। ২৫০ জন বাছাই ছাত্রছাত্রীকে মাসে ১,২৫০ টাকা এবং বই কেনার জন্য বাৎসরিক ২,৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এই টাকাও মার্চে পেয়ে যায় কৃতীরা। ২০২১ সালে রাজ্য সরকার নবম শ্রেণির মেধাবী পড়ুয়াদের জন্যও দু’বছর ধরে মাসিক হাজার টাকা করে ভাতা এবং বই কেনার জন্য দু’বছরে মোট ২,৫০০ টাকা দেওয়া শুরু হয়। এই বৃত্তিগুলি পাওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ ও প্রতিষ্ঠানে থেকে দু’দিনের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে হয়।
প্রত্যেক বছর এই স্কলারশিপের জন্য নোটিফিকেশন বেরত জুন মাসে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সেখানে আবেদন করতেন। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি হত লিখিত পরীক্ষা। যেমন, গত বছর ২৪ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে এখনও স্কলারশিপ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিই প্রকাশিত হয়নি। এবার পরীক্ষা
আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে
উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে। খোঁজ নিতে ভিড় বাড়ছে সংস্থার অফিসে। এই
আবহে সংস্থার ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে জেবিএনএসটিএস ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার নোটিফিকেশন হতে দেরি হচ্ছে। এই ওয়েবসাইটেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ রাজ্যের সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনলজি দপ্তরের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে তবেই মন্তব্য করব।’