


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বয়স ২০ বছরের কাছাকাছি। আর এই বয়সেই বিরল ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন অশোকনগরের পায়েল হালদার। সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নেতাজি শতবার্ষিকী কলেজে সাংবাদিকতা বিভাগে ভরতি হন তিনি। কিন্তু এখন মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় ঘরের এক কোণে দিন কাটছে তাঁর। কথা বলতে অসুবিধা হওয়ায় মোবাইলে টাইপ করে পায়েল বললেন, ‘আমি বাঁচতে চাই, সাংবাদিক হতে চাই।’ অশোকনগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পায়েলের ছোটো থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল। মাধ্যমিকের পরে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় চোখ দিয়ে জল পড়ার সমস্যা শুরু হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ২০২৩ সালে ধরা পড়ে র্যাবডোমায়োসারকোমা নামে বিরল ক্যানসার। টাটা মেডিকেল সেন্টারে প্রায় দেড় বছর চিকিৎসার পরে অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে নেতাজি শতবার্ষিকী কলেজে সাংবাদিকতা বিভাগে ভরতি হন। শারীরিক অবস্থার উন্নতির সময়ে সাইকেল চালিয়ে একাই কলেজে যাতায়াত করতেন। কয়েকমাস আগে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন পায়েল। এখন পায়েলের মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। একটি চোখ প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গিয়েছে। অন্য চোখেও দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হচ্ছে। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং অক্সিজেনের সাহায্য নিতে হচ্ছে। বিছানায় শুয়ে থাকাও সম্ভব হচ্ছে না তাঁর পক্ষে। সোফা বা খাটে হেলান দিয়েই কাটছে দিন। তরল খাবারই এখন ভরসা। রাতে ঘুমও হচ্ছে না ঠিকমতো।
পায়েলের বাবা পরেশচন্দ্র হালদার ছোটো ব্যবসা করেন। মেয়ের দেখাশোনায় ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত ব্যবসায় যেতে পারছেন না। মা মিতালী হালদারও দিনরাত মেয়ের পাশে রয়েছেন। পরেশচন্দ্র বলেন, অনেক কষ্ট করে চিকিৎসা করানোর পরে যখন সুস্থ হয়ে কলেজে ভরতি হল তখন ভেবেছিলাম আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন ওর। এখন ওর এই অবস্থা চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। প্রতিমাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ইঞ্জেকশন লাগছে। এই খরচ আমাদের পক্ষে চালানো সম্ভব নয়। মানুষের কাছে একটাই আবেদন, সাধ্যমতো সাহায্য করুন।
এদিকে চিকিৎসকদের মতে, পায়েলের চিকিৎসায় প্রতিমাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকার একটি বিশেষ ইঞ্জেকশন প্রয়োজন। এত খরচের পরেও সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই নিজের চিকিৎসার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদন করেছেন পায়েলও।