


গুয়াহাটি: ডবল ইঞ্জিন সরকারের শাসনে তুমুল নৈরাজ্য। অসমে গত ১২ মে শপথগ্রহণ করেছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার নতুন সরকার। মাত্র ২ মাসও বয়স হয়নি এই নতুন সরকারের। তারই মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ হল বিধানসভায়। বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস বিধায়ক ওয়াজেদ আলি চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এই দু’মাসে অসমে ১১০টি ধর্ষণ এবং ৪৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। মহিলা সুরক্ষা এবং মহিলা ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলা সরকারের এই তথ্যে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। গত এক দশকে অসমে মহিলাদের উপর অপরাধের মোট ২ লক্ষ ৪ হাজার ১৩৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ৬৭৭টি খুন, ১৪ হাজার ৪৫৬ ধর্ষণ, ১ হাজার ৪৬৩টি পণের জন্য অত্যাচার এবং অন্যান্য অপরাধ সংক্রান্ত ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫৩৮টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমে এসেছে।
বিধানসভায় বিস্তারিত তথ্য দিয়ে হিমন্ত জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ১০৯১ টোল ফ্রি নম্বর সহ নারী সহায়তা ডেস্ক চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে পুলিশ ও ভিলেজ ডিফেন্স পার্টির মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সব থানায় মহিলা সেল গঠন সহ মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পালটা বিরোধীদের দাবি, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের পরিসংখ্যান ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হলেও তা নিয়ে সরকারের আত্মতুষ্টির কোনো কারণ নেই। নতুন সরকার গঠনের মাত্র দু’মাসের এই তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কংগ্রেস বিধায়ক জাকির হোসেন সিকদার ‘বর্তমান’কে জানান, সরকার বলছে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিন হিংসার ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের যে কাজ করার কথা ছিল, তা তারা করছে না। বিজেপি বিধায়ক ভূপেন বোরা বলেন, ‘আমাদের সরকার যে কোনও ধরনের অপরাধ দমনে ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন মানুষ পুলিশের কাছে নির্ভয়ে যেতে পারে তাই মামলা নথিভুক্ত হচ্ছে।’