


সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর অত্যাচারের অভিযোগ উঠছে। এবার বোলপুর পুরসভার শান্তিনিকেতন সংলগ্ন রতনপল্লি এলাকায় হোল্ডিং করিয়ে দেওয়ার নামে মোটা টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাতে শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি।
অভিযোগকারী দেবাশিস পোদ্দার, বোলপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রতনপল্লির বাসিন্দা। তিনি ও তাঁর স্ত্রী সোমা পোদ্দার দু’জনেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। দেবাশিসবাবুর অভিযোগ, একসময় তাঁদের এলাকাটি রূপপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছিল। পরে ওই এলাকা বোলপুর পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বাড়ির হোল্ডিং কনভার্ট করার প্রয়োজন হয়। সেই সময় ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার চন্দন মণ্ডল তাঁদের কাছ থেকে হোল্ডিং কনভার্ট করার জন্য দেড় লক্ষ টাকা দাবি করেন।
দেবাশিসবাবুর দাবি, প্রথমে তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হোল্ডিং করানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কাউন্সিলার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাকা না দিলে কোনো কাজ হবে না। পুরসভায় গিয়েও লাভ হবে না বলেও তাঁকে বলা হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে বহু কষ্টে টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হন তাঁরা।
অভিযোগকারী বলেন, আমরা দু’জনেই প্রতিবন্ধী। সেই সময় খুব অসহায় ছিলাম। স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। অনেক কষ্ট করে স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে এবং তিলে তিলে জমানো টাকা দিয়ে হোল্ডিং করাতে হয়েছিল। তখন ওদের শাসনকাল ছিল বলে ভয়ে কিছু বলতে পারিনি। এখন সরকার বদলেছে, তাই সাহস করে অভিযোগ জানিয়েছি। আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলার চন্দন মণ্ডল। তিনি বলেন, এটা ২০২২ সালের ঘটনা। তখন কেন তিনি কিছু বলেননি? নতুন করে সরকার গঠন হতেই এখন এসব মনে পড়ছে। সেই সময় আমরা টানা তিন মাস ধরে ক্যাম্প করেছিলাম। তাঁর কোনো সমস্যা থাকলে তখনই সেখানে এসে জানাতে পারতেন। পুরসভায় গিয়েও বিষয়টি জানানো যেত। এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।