


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোমবার দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দায়িত্ব নিয়েই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ব্রিটেন। তা সমাধানের চেষ্টা করবেন তিনি। উদ্বোধনী বক্তৃতায় বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তটিকে ব্রিটেনের জন্য একটি ‘সার্কিট-ব্রেকার’ বা আমূল পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে গড়ে তুলব। গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে এবার। এক নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গ্রহণ করব।’ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কিয়ের স্টারমের ইস্তফা দেওয়ার পরে গত সপ্তাহে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন বার্নহ্যাম। সোমবার তাঁকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। খুব শীঘ্র তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রী রাচেল রিভসকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্টারমার ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী যেমন ডেভিড লামি, পিটার কাইল, স্টিভ রিডকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। লুই হেইগ সহ বেশ কয়েকজন নয়া মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
এক দশকের মধ্যে বার্নহ্যাম হলেন ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। দেশে ক্রমশ দক্ষিণপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। জনমত সমীক্ষায় লেবার পার্টির পিছিয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় লেবার পার্টির বাজি বার্নহ্যাম। দলের আশা, নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
আগের প্রধানমন্ত্রীরা সাধারণত প্রথম বক্তৃতার সময় আগে থেকে লেখা কোনো নোট পড়ে শোনাতেন। এদিন তাঁর হাতে ছিল না কোনো বক্তৃতার খসড়া। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি জানি দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ। আমি আপনাদের কথা বুঝতে পারছি। আপনাদের কাছে সৎ থাকতে চাই। স্বীকার করছি, আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো কাজ করতে পারিনি। আমাদের আরও ভালো কাজ করতে হবে। আমরা তা করবই।’ চলতি বছরের মধ্যেই তাঁর সরকার ১০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এদিন আশির দশকে প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আমলে শিল্প ধ্বংসের কঠোর সমালোচনা করেছেন বার্নহ্যাম।