


সংবাদদাতা, তেহট্ট: সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে থাকা জমি চাষ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন চাষিরা। সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাষিদের একাংশ ওই জমি বাংলাদেশি নাগরিকদের লিজে চাষ করতে দিচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কড়া অবস্থান নিল বিএসএফ। কোনোভাবেই ভারতীয় জমিতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বিএফএফ। জমি লিজ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএসএফ।
সম্প্রতি তেহট্ট বিধানসভা এলাকার ভাটুপাড়া গ্রামে বিএসএফের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ, প্রধান শম্পা মণ্ডল-সহ গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক হয়। সেখানেই সীমান্ত সংলগ্ন জমি নিয়ে সমস্যা এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ বলেন, ভারতীয় জমি কোনোভাবেই বাংলাদেশিদের লিজে দেওয়া যাবে না। যদি কেউ সেটা করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এবং কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা বেশকিছু কৃষিজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা রয়েছে। কাঁটাতারের ওপারে থাকা জমিতে চাষ করার পর ফসল ঘরে তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন ভারতীয় চাষিরা। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ফসল ফলার পর বাংলাদেশিরাই তা কেটে নিয়ে চলে যায়। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন এপারের চাষিরা। এই পরিস্থিতিতে লোকসান সামলাতে তাঁদের একাংশ মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে ওই জমি বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এমনকি অনলাইনের মাধ্যমেও জমি সংক্রান্ত লেনদেন চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিএসএফ কর্তারা। তাঁদের আশঙ্কা, জমি চাষের অজুহাতে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত বাড়লে সীমান্ত নিরাপত্তায় বড়সড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে বিএসএফের তরফে জানানো হয়, ভারতীয় জমিতে কোনোভাবেই বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি গোপনে জমি লিজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতীকী চিত্র