


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জাতি জনগণনা ইস্যুতে বিভ্রান্তি তৈরি করছে মোদি সরকার। মঙ্গলবার এই অভিযোগে সরব হল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখে যা বলেন, কাজে তা করেন না। তাই জনগণনার সঙ্গে এবার জাতি গণনা হবে বলা হলেও আদতে তা হবে না বলেই দাবি করল কংগ্রেস। এ ব্যাপারে প্রশ্নমালা পরিবর্তন করে স্পষ্ট আকারে জাতির উল্লেখ যুক্ত করার দাবি করা হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যৌথভাবে চিঠি দিলেন রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তেলেঙ্গানা আর বিহার মডেল অনুসরণ করে স্পষ্টভাবে জাতির নামোল্লেখ করেই গণনার পক্ষে সওয়াল করলেন তাঁরা।
এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেই চিঠি প্রকাশ করে এআইসিসির প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, বিভ্রান্তিকর গণনা হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সাধারণ গণনার সঙ্গে জাতি জনগণনা হবে বলে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কে কোন জাতের তার উল্লেখ করা হবে না বলেই প্রশ্নমালা তৈরি হয়েছে। তাহলে কী করে জানা যাবে ভারতে কোন জাতের মানুষ কত রয়েছেন? কী করে হবে তাঁদের জন্য প্রকল্প? তাই এই পদ্ধতি বাদ দিতে হবে। সাজাতে হবে নতুন প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে রাহুল-খাড়্গেরা বলেছেন, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তাতে ভুল হতে পারে। জনগণনায় জাতিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। অবিলম্বে এই প্রশ্নমালা প্রত্যাহার করা হোক। অন্য কোনো পন্থায় জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হোক। তবেই হবে সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতির বাস্তবায়ন। অন্যদিকে, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে হল বিজেপি বনাম বিরোধীদের বচসা। ইস্যু: যন্তরমন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ। কত পেলেট গান চলেছে? কেন এত সংখ্যক পুলিশ ফোর্স ব্যবহার করা হয়েছে? ইত্যাদি প্রশ্ন তুলে সরব হন ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সুপ্রিয়া সুলের মতো বিজেপি দলের সাংসদরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের ডেকে এ ব্যাপারে জবাবদিহি চাওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনার দাবি করেন তাঁরা। যদিও বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাধামোহন সিং আগরওয়াল ওই আলোচনায় রাজি হননি। বলেছেন, এটা আলোচনার এজেন্ডায় নেই। কিন্তু বিরোধী সাংসদরা অনড় থাকেন।