


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকার একই দলের। কিন্তু সিদ্ধান্তে সহমত নয়। গণবণ্টন ব্যবস্থায় ফ্রি রেশন দেওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে উপভোক্তার চোখের মণি (আইরিস) মিলতেই হবে। গত ১৩ জুলাই নির্দেশ দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যসচিব। চোখের মণি-ভিত্তিক বায়োমেট্রিকে জোর দিয়ে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। যদিও কেন্দ্র তা খারিজ করে দিল। রাজ্যের নির্দেশের সমালোচনা করে সুরাহার দাবিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিব সঞ্জীব চোপড়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনে’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তাঁর মুখে এভাবে রাজ্যের নির্দেশে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রেশন বিতরণে ব্যাঘাতের অভিযোগ শুনে এবং রাজ্যের নির্দেশিকার কপি দেখে কেন্দ্রীয় সচিব জানিয়ে দেন, আধার আইনে যা বলা আছে, সেটাই হবে। অর্থাৎ আঙুলের ছাপই অগ্রাধিকার পাবে। চোখের মণি নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এ ব্যাপারে আধার আইনের বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা তো বটেই, রাজ্যের স্মার্ট রেশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ৪ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গেও যাচ্ছেন সঞ্জীব চোপড়া। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।
তবে তাঁদের দাবি না মানলে আগামীদিনে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রেশন দোকানদাররা ককরোচদের মতোই আন্দোলনে নামবেন বলেই কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকের পর হুমকি দিয়েছেন বিশ্বম্ভরবাবু। আগামী ৩০ নভেম্বর দিল্লিতে ডাক দিয়েছেন ডিলার সম্মেলনের। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দোকানদারদের উপার্জন বৃদ্ধি, এসআইআরের নামে ২৭ লক্ষ রেশন গ্রাহকের নাম বাদ দেওয়ার রাজ্য সরকারি তোড়জোরের প্রতিবাদে সরব হবেন তাঁরা। সংসদের বাদল অধিবেশন চলছে। তাই তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে সওয়ালের অনুরোধ জানিয়ে এদিন বিজেপির অনুরাগ সিং ঠাকুর, কংগ্রেসের কুমারী সেলজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে দোকানদারদের সংগঠন।