


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের শেষকৃত্যর মধ্যেই ফের যুদ্ধের দামামা ইরানে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও অব্যাহত মার্কিন এয়ারস্ট্রাইক। গতকাল ইরানের দক্ষিণাংশের বিভিন্ন শহর কেঁপে উঠেছিল। এদিন সকালে নিশানা বানানো হয় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকাকে। শুধু তাই নয়, মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত দক্ষিণ ইরানের বন্দর শহর চাবাহারও। এই চাবাহার বন্দরেই কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে ভারতের। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, গোটা চাবাহারজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুবেছে শহর। ইরানি আধিকারিকদের দাবি, বুশহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছেও বিস্ফোরণ হয়েছে। দু’দিনের হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৪ জনের। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজে হামলা চালানোর ক্ষমতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে এদিন ইরানের ৯০টি সামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়েছে। তেহরানের পাশাপাশি হামলা চালানো হয়েছে বন্দর আব্বাস, সিরিক, কুহেসতাক, চাবাহার, জাস্ক, আবু মুসা আইল্যান্ড ও কোনারাকে। পালটা হিসাবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সহযোগী প্রতিবেশী দেশ বাহরিন, কাতার, কুয়েতকে নিশানা বানিয়েছে ইরানও। দু’পক্ষের সংঘর্ষের জেরে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
স্বাভাবিকভাবেই এই ধাক্কায় তিন সপ্তাহের মধ্যেই ফের চড়তে শুরু করেছে অশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে দর ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলার পেরিয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলির আশঙ্কা, দ্রুত এই দাম পৌঁছবে ১১০ ডলারে। এই আশঙ্কা সত্যি হলে ভারতেও পেট্রল-ডিজেলের দাম ফের বাড়াতে চলেছে সরকারি তেল সংস্থাগুলি। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক বুধবার রাত থেকেই চরম আতঙ্কিত। কারণ, আমেরিকার মিসাইল আক্রমণের জেরে হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ফের স্তব্ধ হয়ে যাবে পেট্রল-ডিজেল, পণ্য ও এলপিজি বহনকারী জাহাজের আগমন। তা নিয়ে এদিন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকে জরুরি বৈঠক হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের হামলার ঘটনা। ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন, সংঘর্ষ বিরতি শেষ। ওই ঘোষণার পরই ফের শুরু হয় হামলা। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকার থেকে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহু বেশি। ওরা একটা মারলে আমরা ২০টা মারব।’ তাহলে কি ফের পুরোদস্তুর যুদ্ধ শিয়রে? ট্রাম্পের জবাব, ‘আমার জানা নেই। তবে খুব শীঘ্রই আমরা জয়ী হতে চলেছি।’ ইরানের স্পিকার তথা প্রধান মধ্যস্থতাকারী মহম্মদ বাঘের গালিবাফের পালটা তোপ, ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের যে বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে, সেটা আমেরিকা এখনও শেখেনি।’