


সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: বৌদ্ধ স্থাপত্যের অনন্য রূপে সনাতন সংস্কৃতির মেলবন্ধন। দুর্গাপুজোর ৪৭তম বর্ষে অভিনব থিমে দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে প্রস্তুত গঙ্গারামপুরের চিত্তরঞ্জন স্পোর্টিং ক্লাব। এবারও বিগ বাজেটের পুজো করছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এই ক্লাব। মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা ও চন্দননগরের চোখধাঁধানো আলোকসজ্জার পাশাপাশি থাকছে বিশেষ লেজার শো। পুজোর আগে তাই শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই পুজো।এবার পুজো মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে। গগনচুম্বী মন্দিরের বহির্ভাগে ফুটিয়ে তোলা হবে পুঁথি ও জরির কাজ। পাশাপাশি থাকবে বৌদ্ধ চেতনার নানা নিদর্শন। সনাতন ধর্মীয় ভাবধারা ও বৌদ্ধ স্থাপত্যের মেলবন্ধনে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করেই আধ্যাত্মিকতার বিশেষ আবহ অনুভব করতে পারবেন বলে আশা উদ্যোক্তাদের। প্রতিমাতেও থাকছে পৌরাণিক কাহিনির ছোঁয়া। রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন রামচন্দ্র। সেই আরাধনাই অকালবোধন নামে পরিচিত। এবার মণ্ডপের ভিতরে ঋষি,মুনিদের সঙ্গে রামচন্দ্রের অকালবোধনের দৃশ্য তুলে ধরা হবে। দেবীর আহ্বানে উচ্চারিত হবে বৈদিক মন্ত্র, যা পুজোর পরিবেশে যোগ করবে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতা। আলোকসজ্জাতেও থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। রাজ্য ও জাতীয় সড়কের উপর তৈরি হচ্ছে বিশাল আলোর তোরণ। কোথাও সমুদ্র মন্থনের দৃশ্য, কোথাও আবার কৈলাসে ধ্যানমগ্ন ভোলানাথের প্রতিচ্ছবি আলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে পুরাণের নানা কাহিনি। পঞ্চমী থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মণ্ডপ। পুজোর পাঁচ দিন জনসেবামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি ক্লাব প্রাঙ্গণে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। বৈষ্ণবীয় রীতিনীতি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে হবে দেবীর আরাধনা। অষ্টমীর অঞ্জলি শেষে সাধারণ মানুষের জন্য থাকছে ভোগ বিতরণ ও মহাভোজের ব্যবস্থা। পুজোকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে সাহায্য করেছে ক্লাবের সদস্য পুজো কমিটির সভাপতি শিশির ঘোষ ও ক্লাব সম্পাদক সুশান্ত সাহা চিত্তরঞ্জন স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক প্রাণগোপাল সাহা বলেন, ৪৭তম বর্ষে শহর তথা জেলাবাসীর মনে ছাপ ফেলার মতো পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে সনাতন সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হচ্ছে। ষষ্ঠীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পুজোর উদ্বোধন করবেন। পাঁচ দিন ধরে জনসেবামূলক কাজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো এবং প্রসাদ বিতরণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব চিত্র