


সংবাদদাতা, বহরমপুর: এবার পুজোয় উদ্যোক্তাদের পদ্মফুল জোগাড় করার জন্য আর চিন্তা করতে হবে না। পুজোয় সস্তায় পদ্ম মিলবে। পদ্ম চাষি এবং ফুল বিক্রেতারা এমনটাই দাবি করেছেন। চাষিদের দাবি, অনুকুল আবহাওয়ায় এবার পদ্মের ফলন খুবই ভালো। এখন থেকেই বাজারে প্রচুর পদ্ম আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি বিক্রেতারা ইতিমধ্যে হিমঘরে পদ্ম মজুত করতে শুরু করে দিয়েছেন। একদিকে উৎপাদন অন্যদিকে হিমঘরের জোগান পুজোয় পদ্মের দাম তলানিতে নিয়ে আসবে। বিক্রেতাদের দাবি, বিশ্বকর্মা পুজোয় বহরমপুরে দু থেকে আড়াই টাকা দামে পদ্ম বিক্রি হয়েছে। দুর্গাপুজোয় তা পাঁচ থেকে সাত টাকার মধ্যে থাকবে। তবে পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশের দাবি, বহুবার দেখা গিয়েছে বাজারে প্রচুর পদ্ম আমদানি হয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ফুলের কালোবাজারি করায় চড়া দামে পদ্ম কিনতে হয়। বিক্রেতারা কালোবাজারি না করলেই ফুলের দাম নাগালের মধ্যে থাকবে। মুর্শিদাবাদ জেলায় কান্দি, বড়ঞা, খড়গ্রাম, নবগ্রাম, সাগরদিঘি, শক্তিপুরে প্রচুর পদ্ম চাষ হয়। অনেকে নিজের পুকুরে, কেউ কেউ পুকুর লিজে নিয়ে পদ্ম চাষ করেন। পদ্ম চাষি অবিরাম হালদার বলেন, সারা বছর পদ্ম ফুলের এত চাহিদা বেড়েছে যে মাছ চাষ অপেক্ষা এখন পদ্মচাষ লাভজনক হয়েছে। দুর্গা পুজোয় স্থানীয় বাজার ছাড়াও কলকাতায় ফুল পাঠিয়ে বেশি লাভ হয়। এবার ফুলের উৎপাদন খুব ভালো। এবার গড় বৃষ্টিপাতের হার পদ্ম চাষের পক্ষে খুবই উপযোগী ছিল। পুকুর, দিঘি শুকানোর মতো খরাও হয়নি। ফলে পদ্ম পাতা আর পদ্ম ফুলের ফলন খুবই ভালো। বহরমপুর শহরের ফুল বিক্রেতা সতন ঘোষ বলেন, এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রোজ পদ্ম যায়। পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি সরকার আসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পদ্মের চাহিদা বেড়েছে। তবে এবার জোগানের অভাব নেই। ফুল বিক্রেতা রাজু কৈবত্য বলেন, এবার সারা বছর পদ্মের দাম পিস প্রতি পাঁচ টাকায় ওঠেনি। আশা করছি পুজোয় ৫-৬ টাকা প্রতি পিস হিসাবে দাম থাকবে। এখন যাঁরা অর্ডার দিচ্ছেন তাঁদের ১০৮ পদ্মের মালা ৩০০-৩৫০ টাকায় দিচ্ছি। অসাধু বিক্রেতাদের কালোবাজারির আতঙ্কে অনেকে পুজো উদ্যোক্তারা পদ্মের দামের হেরফেরের আশঙ্কা করছেন। বহরমপুর শহরের পুজো উদ্যোক্তা রাজিব শীল বলেন, পদ্মের কালোবাজারি না হলে এবার খুব সস্তায় পদ্ম মিলবে বলেই এখনও পর্যান্ত আশা করছি।