


সংবাদদাতা, নলহাটি: প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ছোট হওয়ায় স্টেশনে দাঁড়ানো দূরপাল্লার ট্রেনের বেশ কিছু কামরা থাকে প্ল্যাটফর্মের বাইরেই। ট্রেনের অধিকাংশ বগি প্ল্যাটফর্ম ‘পায় না’ বলে, লাইনে নেমে ওঠানামা করতে হয় যাত্রীদের। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ এই জংশন স্টেশনে অধিকাংশ এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনও স্টপেজই নেই। এই যখন নিত্যদিনের আসল সমস্যা, ঠিক তখনই মূল সংকট আড়াল করে নলহাটি জংশনে শুরু হয়েছে ট্রেন ও কোচ, প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন বোর্ড বসানোর কাজ। রেলের এই বৈপরীত্যমূলক পদক্ষেপ ঘিরে এখন চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় যাত্রী ও নাগরিক মহলে।
পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে নলহাটি জংশনের পাঁচটি প্ল্যাটফর্মে পিআইবি, টিআইবি ও সিআইবি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসানো শুরু হয়েছে। স্থানীয় এক রেল কর্তার দাবি, এর ফলে প্ল্যাটফর্মের শেডে দাঁড়িয়েই যাত্রীরা একনজরে ট্রেনের সার্বিক সময়সূচি, নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে পরবর্তী কোন ট্রেন আসছে, তার বর্তমান স্ট্যাটাস এবং সম্ভাব্য সময় জানা যাবে। অন্যদিকে দেখতে পাবেন জেনারেল, স্লিপার বা এসি কামরা প্ল্যাটফর্মের ঠিক কোন জায়গায় এসে থামবে। যাত্রীদের আর অহেতুক হুড়োহুড়ি করতে হবে না।
কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিদিনের যাত্রীদের প্রশ্ন অন্য জায়গায়। অমিত ভট্টাচার্য, সুকমল দাস, সিরাজুল মোমিনরা বলেন, কোচ ইনফরমেশন বোর্ড দেখে যাত্রী হয়তো বুঝতে পারলেন তাঁর বগিটি ঠিক কোথায় আসবে, কিন্তু ট্রেনে উঠতে গিয়ে দেখা গেল সেই বগিটি প্ল্যাটফর্মের বাইরে, রেললাইনের পাথরের ওপর গিয়ে দাঁড়িয়েছে! তখন বোর্ডের এই ডিজিটাল তথ্য যাত্রী কী কাজে লাগাবেন?
উল্লেখ্য, বর্ধমান–সাহেবগঞ্জ লুপ লাইন এবং নলহাটি-আজিমগঞ্জ শাখার সংযোগস্থল এই জংশনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগের অন্যতম জংশন এটি। রয়েছে ৫১ পীঠের নলাটেশ্বরী মন্দির ও বৃহৎ পাথর শিল্পাঞ্চল। তা সত্ত্বেও নলহাটি জংশনের প্ল্যাটফর্মগুলি আজও পর্যাপ্ত দীর্ঘ নয়। প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ার কারণে কোনো দীর্ঘ দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন এসে দাঁড়ালে ট্রেনের কয়েকটা সামনের ও পিছনের কামরা প্ল্যাটফর্মের বাইরে চলে যায়। ফলে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও শিশুদের নিয়ে লাগেজ হাতে ঝুঁকি নিয়ে পাথরময় ট্র্যাকে নেমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। বহু সময় লাইনে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।
দীর্ঘদিন ধরে নলহাটি নাগরিক মঞ্চ ও ব্যবসায়ী সমিতি প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ, জংশনের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। নাগরিক মঞ্চের অন্যতম রাজেন্দ্র মিশ্র, ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সৌমেন ঘোষ বলেন, ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড লাগানো আধুনিকীকরণের একটি ভালো উদ্যোগ সন্দেহ নেই, কিন্তু প্ল্যাটফর্ম না বাড়িয়ে শুধু ডিসপ্লে বোর্ড লাগালে যাত্রীদের মূল দুর্ভোগ একফোঁটাও কমবে না। আগে প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে সব কামরাকে প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হোক এবং দাবিমতো এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপ সুনিশ্চিত করা হোক, তবেই আধুনিকীকরণের আসল সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ।