


সংবাদদাতা, বোলপুর: সিজেপির আন্দোলনের চাপে নতিস্বীকার করে শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই আবহে বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বক্তব্য আলোড়ন ফেলে দিয়েছে শিক্ষামহলে।
রবিবার এই বিষয়ে ‘বর্তমান’-কে ফোনে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, উপাচার্য থাকাকালীন আমাকে বিশ্বভারতীর হিন্দি বিভাগের অধ্যাপক চক্রধর ত্রিপাঠীকে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমি সেই নির্দেশ মানতে রাজি হইনি। বিদ্যুৎবাবুর দাবি, এরপর তাঁকে শাস্ত্রী ভবনে ডেকে পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। দেখা পর্যন্ত করা হয়নি। ওই ভাবে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। প্রাক্তন উপাচার্যের আরও অভিযোগ, পরে ওই অধ্যাপককে ওড়িশার কোরাপুট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়। সেখানে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তে চক্রধর ত্রিপাঠীকে পদ ছাড়তে হয়। বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর দাবি, এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎবাবুর আরও অভিযোগ, বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ধর্মেন্দ্র প্রধান বারবার সুপারিশ করতেন। কিন্তু তিনি সেই সুপারিশ মানেননি। তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী ছিলেন। আমি তাঁর নির্দেশ মানিনি বলেই আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। এমনকী ওই সময়পর্বে বিশ্বভারতীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। আশা করি, এবার এমন একজন শিক্ষামন্ত্রী আসবেন যিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই প্রহ্লাদ যোশিকে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই নিয়ে পাল্টা বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক তথাগত চৌধুরী বলেন, প্রাক্তন উপাচার্য দায়িত্বে থাকাকালীন কেন এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেননি? এখন এসব বললে তার তাৎপর্য কী?