


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিগত আড়াই বছরে দিল্লি আইআইটিতে আটজন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন। একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির আইআইটি ক্যাম্পাসে বেনজির বিক্ষোভে শামিল হয়েছে পড়ুয়ারা। তুমুল ছাত্র বিক্ষোভে রীতিমতো অস্বস্তিতে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবারই ঘোষণা করা হয়েছে যে, পড়ুয়া আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত করবে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি। দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়েছে। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে যে, শিক্ষামন্ত্রককে আলাদাভাবে গোটা বিষয়ের উপর নজর রাখতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রয়োজনে আইআইটি দিল্লির অধিকর্তা রঙ্গন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথাও বলতে পারে শিক্ষামন্ত্রক। তবে কেন্দ্রের জন্য যা সবথেকে অস্বস্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হল দিল্লি আইআইটির ঘটনায় ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই ইস্যুতে বড়োসড়ো আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে সামগ্রিকভাবে আইআইটিতে ৬৫ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন। কেন্দ্রকে তুলোধোনা করেছে আপও।
বিক্ষোভের সূত্রপাত দিনকয়েক আগে দিল্লি আইআইটিতে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পড়ুয়া হৃষিকেশের আত্মহত্যার পর। ওই মেধাবী ছাত্র দিল্লি আইআইটি ক্যাম্পাসের একটি বিল্ডিংয়ের ছ’তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপরই দিল্লি আইআইটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয় পড়ুয়াদের বড়ো অংশ। ক্যাম্পাস চত্বরেই জমায়েত শুরু হয়।
বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, ‘ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুল নীতির কারণেই মানসিক অবসাদ গ্রাস করছে পড়ুয়াদের একাংশকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। অথচ দিল্লি আইআইটি কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই।’ রঙ্গনবাবুর পদত্যাগের দাবিতেও সোচ্চার হয়েছে পড়ুয়ারা। এরই মধ্যে দিল্লি আইআইটির এক অধ্যাপকের হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, ওই মেসেজে তিনি চরম কটাক্ষ করে লিখেছেন, কেউ আত্মহত্যা করলে তার দায় সমাজের উপর বর্তায়। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু করার থাকে না। আইআইটিতে পড়াশোনার চাপ থাকবেই। তা নিতে না পারলে অন্য স্ট্রিম বেছে নেওয়া ভালো। ওই অধ্যাপককে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও সোচ্চার হয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ওই পড়ুয়ার চিকিৎসা হয়েছে।
এমন বিবৃতিতে ফের ছড়িয়েছে বিতর্ক।