


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অধ্যাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়োসড়ো বেনিয়ম। এমনই অভিযোগে তোলপাড় পড়েছে ঐতিহ্যবাহী দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ)। অভিযোগ, অযোগ্য ২০০ জনেরও বেশি শিক্ষক-অধ্যাপক নিয়োগ হয়েছে জেএনইউয়ে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য শান্তিশ্রী পণ্ডিতের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে জেএনইউ ছাত্র সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন। তাদের দাবি, অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে উপাচার্যকে। যদিও বেনিয়মের অভিযোগ সটান উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তিশ্রী পণ্ডিত। তিনি বলেছেন, ‘নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি হয়নি। যা হয়েছে, তা যোগ্যতার মাপকাঠিতেই হয়েছে। আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।’ তবে এতে জেএনইউয়ের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো পর্যন্ত নেই। বরং জেএনইউ ছাত্র এবং শিক্ষক সংগঠন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, উপাচার্য যদি অবিলম্বে পদত্যাগ না করেন, তাহলে বড়োসড়ো আন্দোলনের পথে হাঁটা হবে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে মূলত কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে? জেএনইউ ছাত্র সংসদের অভিযোগ, মূলত সংশ্লিষ্ট পদে আবেদন করার যোগ্যতাই নেই, এমন প্রার্থীদের স্থান দেওয়া হয়েছে তালিকায়। অভিযোগ, কোনো পদে চাওয়া হয়েছিল বাধ্যতামূলক আট বছরের শিক্ষকতা/রিসার্চ অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ হয়েছে। আবার কোথাও ইতিহাসের প্রার্থীর জন্য নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। অথচ ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক অধ্যাপকের নিয়োগ হয়ে গিয়েছে। কোথাও বলা হয়েছিল যে, অন্তত সাতটি রিসার্চ পেপার প্রকাশিত না হলে আবেদন করা যাবে না। সেই মাপকাঠি না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ, এমন অভিযোগ করেছে জেএনইউ ছাত্র সংসদ। তাদের আরো অভিযোগ, শুধুমাত্র নিয়োগের ক্ষেত্রে বেনিয়মই নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬১জন শিক্ষক অধ্যাপকের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি আটকে রেখেছে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ। যাবতীয় অভিযোগই অস্বীকার করেছেন উপাচার্য।