


কোচি: বেপরোয়া গতিতে ছুটছে মার্সিডিজ। স্টিয়ারিং সামলাচ্ছে ১৭ বছরের বালক। মুহূর্তের ভুলে বদলে গেল পরিস্থিতি। মার্সিডিজের চাকার নীচে প্রাণ গেল বছর ৫৫-র ব্যক্তির। রবিবার ভোররাতে কেরলের এর্নাকুলামের চেরানাল্লুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত জয়বালকৃষ্ণান মাঞ্জালির বাসিন্দা। রাস্তার ধারে একটি খাবারের দোকান চালাতেন। অভিযোগ, ওই মার্সিডিজ গাড়ির ধাক্কাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত ১৭ বছরের ওই কিশোরের বাবা পেশায় বিচারক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাত আড়াইটে নাগাদ নিজের খাবারের দোকান বন্ধ করে স্কুটারে বাড়ি ফিরছিলেন জয়বালকৃষ্ণান। সেই সময় দ্রুতগতিতে মার্সিডিজ গাড়িটি পিছন থেকে তাঁর স্কুটারে ধাক্কা মারে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল ওই কিশোর। তবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি কয়েক মিটার যাওয়ার পর থেমে যায়। দেখা যায়, গাড়িটি বিচারকের নামে নথিভুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক রিপোর্টে দুর্ঘটনার সময় চালক মদ্যপ ছিল, এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। চেরানাল্লুর থানার সার্কল ইনস্পেক্টর শ্যামকুমার বলেন, আপাতত গাফিলতির কারণে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে একাই ছিল ওই কিশোর। সে নাবালক হওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এদিকে মৃতের ভাইঝি জয়লক্ষ্মীর অভিযোগ, থানায় গেলে তাঁকে আবেগপ্রবণ না হতে বলে পুলিশ। অভিযুক্তের বয়স ১৭ বছর বলে জানানো হয়। কিশোরকে দেখতে চাইলেও তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। অভিযুক্ত কিশোর জেলা বিচারকের ছেলে বলেও তাঁকে জানানো হয়।
জয়লক্ষ্মীর আরও অভিযোগ, নাবালক ও লাইসেন্সহীন ছেলেকে গাড়ি চালাতে দেওয়ার বিষয়ে তার বাবাকে প্রশ্ন করলে তিনি ঔদ্ধত্য দেখান। মৃতের পরিবারের দাবি, নাবালকের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়ার অভিযোগে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করতে হবে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্কুটার।