


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিয়ে ঠিক হয়েছিল দুই পরিবারের সম্মতিতে। কিন্তু তার আগে হবু স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার ভিডিয়ো করে এক মহিলাকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী এক মহিলা পুলিশকর্মী ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পরদিনই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন হবু বধূ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম দীপা কয়াল। ঘটনাকে ঘিরে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারাসতের হাটখোলা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বারাসত থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান দীপার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মৃতার বাবা স্মরজিৎ কয়ালের অভিযোগ, হাটখোলার বাসিন্দা অঙ্কিত রাজপুতের সঙ্গে তাঁর মেয়ের প্রায় তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাঁদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় অঙ্কিতের ভাড়া বাড়িতে যান দীপা। সেখানে ঘরের মধ্যে দু’জনকে একা দেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় তাঁদের ভিডিয়ো করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান ওই পুলিশকর্মী ও তাঁর স্বামী। পরিবারের দাবি, এনিয়ে প্রবল মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন যুবতী। তার জেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন দীপা।
মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্মরজিৎ কয়াল। তাঁর প্রশ্ন, দুই পরিবারের সম্মতিতে যখন বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তখন তাঁর মেয়েকে কেন এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল? অন্যদিকে, অঙ্কিত রাজপুত বলেন, রবিবার সকালেও তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল। তারপর এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা ভাবতেও পারেননি।
তবে অঙ্কিতের বক্তব্য, ভিডিয়ো করার বিষয়টি নিয়ে দীপা বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দুই পরিবারের সম্মানহানি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করেছিলেন তিনি। এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, লেডি কনস্টেবল ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।