


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর সময় শহরের বহু ফুটপাতে এবং মণ্ডপগুলির আশপাশে অস্থায়ীভাবে ফাস্ট ফুডের স্টল বসে। পাশাপাশি বহু স্থায়ী স্টলে প্রচুর স্ট্রিট ফুড বিক্রি হয়। বিভিন্ন রেস্তরাঁয় ভিড় জমান মানুষ। ফলে দ্রুত খাবার পরিবেশন করতে গিয়ে কখনও কখনও রান্নার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর? রান্নায় ব্যবহৃত উপাদানের গুণমানই বা কেমন? প্রশ্ন করেন অনেকে। ফি বছর পুজো এলেই এই ধরনের স্ট্রিট ফুডের দোকান, স্টল, মিষ্টির দোকান, ছোটো-বড়ো রেস্তারাঁয় হানা দেয় কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের ফুড সেফটি টিম। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উত্তর থেকে দক্ষিণ— শহরজুড়ে বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী ফাস্ট ফুডের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছিল। বাদ যায়নি ফুচকা স্টলও। পুরসভার সেই অভিযানে ২২০ রকমের খাবার ও উপাদানের ‘স্পট টেস্ট’ করা হয়েছিল। যার মধ্যে মাত্র ১৯টি ক্ষেত্রে ভেজাল ধরা পড়েছে। এক কথায়, স্ট্রিট ফুডের বাজারে কার্যত লেটার মার্কস পেয়েছেন কলকাতার দোকানিরা।
তাহলে কি খাবারে ভেজাল রুখতে পুরসভার প্রচার ও উদ্যোগের ফলে সচেতন হয়েছে শহর? সচেতনতা ফিরেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট না হলেও ‘স্পট টেস্ট’-এর রিপোর্ট দেখে সন্তুষ্ট পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তারা। যদিও, তাঁরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে খারাপ খাবার ও মাংস ফেলে দেওয়া হয়েছে।
পুজো শুরুর আগে হেদুয়া, হাতিবাগান, শ্যামবাজার এলাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান, ফুটপাতের স্টলে অভিযান চালিয়েছিল পুরসভার ফুড সেফটি বিভাগ। সেবার তেমনভাবে ভেজালের সন্ধান পায়নি দলটি। পুজোর মরশুমে আটদিন শহরের ১৭৪টি জায়গায় ‘স্পট ভিজিট’ করেছে পুর-টিম। প্রতিটি টিমের দায়িত্বে ছিলেন একজন করে ফুড সেফটি অফিসার। সুরুচি সংঘ, দেশপ্রিয় পার্ক, টালা প্রত্যয়, ম্যাডক্স স্কোয়ার, বাগবাজার থেকে শুরু করে শহরের সর্বত্র বড়ো পুজো মণ্ডপ চত্বরে থাকা স্ট্রিট ফুডের অস্থায়ী স্টলে হানা দেওয়া হয়। এমনকি, বিভিন্ন রেস্তরাঁয় চলে অভিযান। এক স্বাস্থ্যকর্তা জানান, এবার একাধিক ফুচকা-পাপড়ি চাটের স্টলেও অভিযান চালানো হয়েছে। কারণ, ফুচকার আলুতে বিষ-রং মেশানোর কিছু অভিযোগ এসেছিল জেলা থেকে। তাই, কলকাতায় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সর্বত্র হলুদ, নুন, লংকার গুঁড়োর মতো খাবারের একাধিক উপাদান থেকে শুরু করে রান্না করা খাবারের নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, মোবাইল টেস্টিং ল্যাবরেটরি ভ্যান নিয়েই ওই টিম ঘুরেছে। ২২০ রকমের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ‘অন স্পট’ খতিয়ে দেখা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ১৯টি নমুনা পর্যাপ্ত মাপকাঠি ছুঁতে পারেনি। অর্থাৎ সেগুলিতে ভেজাল ছিল। যা সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের এক কর্তা বলেন, ১০০ শতাংশ মানুষকে সচেতন করা গিয়েছে, এটা বলা উচিত হবে না। তবে এখন স্ট্রিট ফুডের দোকান বা স্টলে রান্নার উপকরণ খুব একটা খারাপ মানের হয় না। খাবারের দোকানগুলির ক্ষেত্রেও বড়ো কোনো ভেজাল চোখে পড়েনি। একটি দোকান থেকে ৬০ কেজি মতো খাবার ফেলা হয়েছে। যাঁরা খাবার বিক্রি করছেন, তাঁরা সচেতন হয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
রেস্তরাঁ থেকে ফুটপাথের হোটেলে চলছে গুণমান যাচাই।