


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বড়মার কাছে কেউ ভিআইপি নন। সবাই ভক্ত। সবাই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের কাছে পুজো দেবেন। রবিবার নৈহাটির বড়মা মন্দিরে দাঁড়িয়ে এই কথা বলেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে বড়মার কাঠামো পুজোয় যোগ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমিও ব্যারিকেডের বাইরে দাঁড়িয়ে পুজো দেখেছি। ঠাকুরমশাইরা পুজো করবেন। কমিটির লোকেরা তাঁদের সহযোগিতা করবেন। এই পরম্পরা বজায় থাকবে। বিসর্জনের ঘাট সংস্কারে পরিবহণ দপ্তর প্রায় ন’কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
রীতি অনুযায়ী লক্ষ্মীপুজোর সকালে বড়মার বিশাল মূর্তির কাঠামো পুজো হয়। এদিন সেই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অর্জুন সিং ছাড়াও বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি তাপস ঘোষ ছিলেন। দুর্গাপুজোয় কলকাতা শহরজুড়ে ভিআইপি পাস কালচারের রমরমা দেখেছেন শহরবাসী। এমনকি ভিড় সামলানোর অব্যবস্থার কারণে চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনারও সাক্ষী রাজ্যবাসী। সেই আবহে বড়মার পুজোয় ভিড় সামলানো পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ। কারণ, উত্তর শহরতলির বিভিন্ন পুজোয় ভিড় ভালো হলেও বড়মার পুজোর ভিড় সবাইকে ছাপিয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে ওইদিন ভেসে যায় নৈহাটি। গঙ্গা লাগোয়া বড়মা মন্দির সহ আশপাশের রাস্তায় জনস্রোত বয়। সব মিলিয়ে এবার বিশেষভাবে সতর্ক প্রশাসন।
এদিন কাঠামো পুজোর অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্জুনবাবু বলেন, মায়ের কাছে কেউ ভিআইপি হয় না। মায়ের কাছে ভক্ত হিসাবেই সবার যাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই বিষয়েও কড়া নজরদারি রাখা হবে। বিশেষ করে মায়ের বিশালাকার প্রতিমা বিসর্জনের সময় যাতে সমস্যা না ঘটে, সে জন্য ঘাটের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিসর্জনের ঘাটের উন্নয়নে পরিবহণ দপ্তর প্রায় ৯ কোটি টাকা দিয়েছে।
কলকাতার চোরবাগানের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে অর্জুনবাবু বলেন, দুর্ঘটনা কেউ রুখতে পারে না। কিন্তু আমরা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেব। নৈহাটির অরবিন্দ রোডে ভিড়ের চাপ নিয়ে তিনি বলেন, আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। আগে ওই রাস্তায় ঢোকাই কঠিন ছিল। এখন মানুষের যাতায়াত অনেক
সহজ হয়েছে।