


নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: লোকসভার বাদল অধিবেশনে সাসপেন্ড করা হল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বিরুদ্ধে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, কুরুচিকর মন্তব্য এবং অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়রা। সূত্রের খবর এনসিপিআই সাংসদ মিতালি বাগের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁকে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ। বচসা চরমে উঠলে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এরপর আজ, বুধবার এনসিপিআই সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিযোগ জানান। শতাব্দী রায় বলেন, কল্যাণবাবু সবসময়ই এটা করে থাকেন। প্রায় সবার সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করেন। মহিলাদের কটূক্তি করেন। অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন। তাঁকে সমর্থন করে কাকলিও এই একই অভিযোগ সামনে আনেন। কল্যাণকে সাসপেন্ড করতে প্রস্তাব পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। ধ্বনি ভোটে সেই প্রস্তাব পাশ হয়। সাসপেন্ড করা হয় কল্যাণকে। এই ঘটনা তৃণমূলের জন্যও বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরই ঘাসফুল শিবির ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূলের হাতে রয়েছে মাত্র ৭ জন সাংসদ। তার মধ্যে প্রথম সারিতে ছিলেন কল্যাণ। কিন্তু এদিন সাসপেন্ড হওয়ার পর আসন্ন বাদল অধিবেশনে বাদ পড়লেন তিনি। আগস্ট মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত চলবে বাদল অধিবেশন।
অন্যদিকে, গত ২১ জুলাই কালীঘাট তৃণমূলের জনসভায় মঞ্চের উপরই মমতার সঙ্গে বিতর্কে জড়ান কল্যাণ। দীর্ঘ ভাষণে আপত্তি তোলায় মমতাকে আঙুল উঁচিয়ে কথাও বলতে দেখা যায় তাঁকে। যদিও সেই হাত নামিয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। এরপর মমতা-কল্যাণের কথোপকথন যাতে সামনের সারির লোকজন শুনতে না পান সেজন্য কুণাল ঘোষ মঞ্চের সামনে থাকা মাইক সরিয়ে নেন। শেষে দলনেত্রী মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সভামঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান কল্যাণ।