


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপিকে সমর্থন করতেন নাকাশিপাড়ার মুড়াগাছার বিদ্যুৎ মুখোপাধ্যায়। নভেম্বর মাসের ৯ তারিখ তাঁকে ফোন করে ডেকেছিলেন কয়েকজন। ভাতের থালা ফেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ৬১ বছরের বিদ্যুৎবাবু। তারপর আর ফেরেননি। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণ করা হয় তাঁকে। নাকাশিপাড়া থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু দুষ্কৃতীরা প্রভাবশালী বলে পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করেনি। সরকারে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জনতার দরবার চালু করেছেন। শনিবার সল্টলেকে সেই দরবারে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে গোটা বিষয়টি জানায় অপহৃতের পরিবার। তাঁরা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কাছ থেকে নিয়ে নথিপত্র সব পড়েছেন। তারপর বলেছেন, চিন্তা করবেন না। আমি যা করার সব করব।’
শনিবার জনতার দরবার উপলক্ষ্যে সকাল আটটা থেকে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে বিজেপি অফিসে ঠাসা ভিড়। কেউ এসেছেন ক্যানিং থেকে। কেউ নাকতলা থেকে। কেউ মাঠপুকুর তো কেউ আরও দূরের কোনো জায়গা থেকে। ৯ বছরের শিশুকন্যার গলার বাঁ দিক অস্বাভাবিক ফুলে গিয়ে ঝুলে পড়েছে। ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন। শিশুটির মা গৃহ পরিচারিকা। বাবা জঞ্জালের গাড়ি চালান। সামর্থ্য নেই বলে মেয়ের চিকিৎসা এখন বাধ্য হয়ে বন্ধ রেখেছেন তাঁরা। এদিন তাঁরাও এসেছিলেন জনতার দরবারে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কথাও শোনেন। শিশুটির নাম আরোহী বাউরি। তার মা অরুণাদেবী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা খুবই আশ্বস্ত হয়েছি।’
এদিন মোট ৪১ জনের নাম নথিভুক্ত ছিল। তাঁরা এসে সাক্ষাৎ পান এবং নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। আশুতোষ কলেজের অশিক্ষক কর্মচারী গোপাল দাস ২৫ বছর ধরে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করছেন। এখনও স্থায়ী হননি। তাঁর অভিযোগ, অবৈধভাবে কয়েকজনকে কলেজে চাকরি দিয়ে স্থায়ী করে দেন কর্তৃপক্ষ। অথচ তাঁর ক্ষেত্রে কিছুই করেনি। এখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছেন সুবিচার চাইতে। নিজেদের দাবিদাওয়া জানাতে এসেছিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। রাজ্যের ফার্স্ট টিয়ার সুপারভাইজাররা এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেদের কথা তুলে ধরেন।
বিকাশ মণ্ডল ভোর পাঁচটায় বেরিয়েছিলেন ক্যানিং থেকে। সাড়ে আটটা নাগাদ এসে পৌঁছন সল্টলেকে। তাঁর ছেলের নাম পলাশ। বয়স ২৪ বছর। তাঁর মলদ্বারে ক্যান্সার হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে সঠিকভাবে চিকিৎসা হয়নি। ভেলোরের একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিকাশবাবু। কিন্তু চিকিৎসা করাতে করাতে আগেই টাকা সব শেষ। এখন মুখ্যমন্ত্রী যদি সাহায্য করেন তাহলে ছেলে প্রাণে বাঁচবে। এই আশাতেই বুক বেধেছেন প্রৌঢ় পিতা।
এরকম বহু মানুষ নিজেদের অসহায়তায় কথা তুলে ধরেন জনতার দরবারে। প্রায় সোয়া দু’ঘণ্টা ধরে তাঁদের আবেদন-আর্জি শোনেন মুখ্যমন্ত্রী।