


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: জবাব দিতেই হবে। নিতে হবে দায়ও। রামমন্দিরে চুরির এবং প্রশ্ন ফাঁসের। আজ শুরু হতে যাওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে এই সাঁড়াশি আক্রমণের প্রস্তুতিই নিয়েছে বিরোধীরা। লক্ষ্য একটাই—প্রধানমন্ত্রীকে কোণঠাসা করা। আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে অধিবেশন। তবে প্রথম দিন থেকেই জোড়া ফলায় সরকারকে বিঁধতে তৈরি মোদি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’। বিক্ষোভের পারদ চড়াতে ওয়েলে নেমে দেওয়া হবে সরকার বিরোধী স্লোগানও। দাবি তোলা হবে, বিবৃতি দিন প্রধানমন্ত্রী। তোলা হবে প্রশ্ন, কেন ‘মৌন’ মোদি? তোয়াক্কা করা হবে না সাসপেন্ড হওয়ারও।
নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে রীতিমতো চাপে ফেলেছেন সংসদের দুই সভার বিরোধী দলনেতা। রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, বামেরাও এ ব্যাপারে একজোট। রবিবার সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ, জয়রাম রমেশ, তৃণমূলের সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব, সিপিএমমের জন ব্রিটাসরা তা জানিয়ে দিয়েছেন। গলায় সমস্যার জন্য এনসিপি (শারদ পাওয়ার)-এর নেত্রী সুপ্রিয়া সুলেকে চিকিৎসকরা ন্যূনতম এক সপ্তাহ কথা বলতে বারণ করেছেন। তাই তিনি লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দু’টি ইস্যুতেই সঙ্গে আছেন তাঁরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তৃণমূলে বিদ্রোহ করে এনডিএ পক্ষে শামিল হলেও এনসিপিআই দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত বলেছেন, ‘বিরোধীদের নিয়েই সংসদ। তাই বিরোধীদের বক্তব্য সরকারকে শুনতেই হবে।’
সরকার এদিনের বৈঠকে বিরোধীদের শান্তিপূর্ণভাবে সংসদ চলতে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। সরকার যে ছ’টি বিল আনবে, তা পাশ করানোর জন্য সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন রাজনাথ সিং, কিরেন রিজিজু, জেপি নাড্ডার মতো মন্ত্রীরা । ‘এলাকা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি’ বলেই বৈঠকের পর জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। তবে পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংসদের পক্ষে বার্তা যেন ভিন্ন না হয়, তার অনুরোধ রেখেছেন রাজনাথ। আজ বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজ্যসভায় বন্দে মাতরম সংক্রান্ত একটি বিলও পেশ করবেন বলেই ঠিক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেটি হল, ‘দ্য প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল।’ তাতে বলা আছে, জাতীয় গীত ‘বন্দেমাতরম’কে যদি কেউ অসম্মান করে, তাহলে হতে পারে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও। লক্ষ্য একই—দেশাত্মবোধ সামনে রেখে বিরোধীদের ‘পাশে পাওয়া’। তাতে অবশ্য রামমন্দির দুর্নীতি এবং প্রশ্ন ফাঁসের আঁচ কমছে না। বিরোধীরা এক্ষেত্রে একজোট হয়ে রয়েছে। বিশেষত আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতেও তাই সুর চড়বে। এই ইস্যুতে দেরাদুনে ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতে তরুণ প্রজন্মের মনোভাব বুঝে রাহুল গান্ধীর রক্ত গরম। তারই মধ্যে যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে অমিত শাহর পুলিশ যেভাবে সোনাম ওয়াংচুকে ‘অপহরণ’ করেছে, তার প্রতিবাদেও সরব বিরোধীরা। আজ ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান কর্মসূচিও রয়েছে। তাই ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ সংসদে তুলে ধরা হবে বলেই জানিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর বিরোধীদের উপর অত্যাচারের ইস্যুও অধিবেশনে তুলবে তৃণমূল।