


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শেষ পাঁচ বছরে তৃণমূলের রাশ ছিল যুবদের হাতে। জেলায় যুব সংগঠনের নেতারাই ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন। যাঁরা বাম জমানায় লড়াই করে সংগঠনের ভিত মজবুত করেছিলেন, সেই সমস্ত প্রবীণ নেতা এবং কর্মীরা যুবদের দাপটে ব্যাক বেঞ্চে চলে গিয়েছিলেন। যুবদের আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও কিছু বলার সাহস ছিল না। দলের দুর্দিনে সেই যুব নেতারা উধাও হয়ে গিয়েছেন। কোনো ব্লকেই তাঁদের দেখা যাচ্ছে না। জেলা পার্টি অফিসের ঝাঁপ খুলছেন সেই পুরনো নেতা এবং কর্মীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের ২১ জুলাই কর্মসূচি সফল করতে তাঁরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। পুরনোরাই মঙ্গলবার সকালে কেউ ট্রেনে আবার কেউ বাসে কলকাতায় যাবেন।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে জেলা পার্টি অফিসে ২১জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক হয়। সেখানে স্বপন দেবনাথ, দেবু টুডু, উজ্জ্বল প্রামাণিকের মতো পুরনো নেতাদেরই দেখা গিয়েছিল। যুব নেতারা গড় হাজির ছিল। প্রবীণরা বলছেন, যুব নেতারা বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। তাঁরা দলের ভাবমূর্তি ক্ষতি করেছেন। অথচ ক্ষমতায় থাকার সময় তাঁদেরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া আর কিছু করেননি। দলের এক যুবনেত্রী জেলায় সভা করতে এলে লক্ষাধিক টাকা নিতেন। তাঁদের দলের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। সেটা নেত্রীর আগে বুঝলে দলের এই পরিণতি হত না। ভোটের ফল বেরনোর পর যুব নেতাদের আর কাউকেই ময়দানে দেখা যাচ্ছে না। অথচ ভোটের আগে তাঁদের হম্বিতম্ভি ছিল অন্য রকম। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দল করতে এসেছিলাম। প্রতিবার ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে কলকাতা যাচ্ছি। এবারও যাব। আমরা মত বহু পুরনো সৈনিক কলকাতা যাবেন। দলের আর এক নেতা বলেন, ট্রেনে, বাসে কর্মীরা কলকাতায় যাবেন। সবাই ভয় পেয়েছেন এমনটা নয়। সাধারণ কর্মীরা দলকে ভালবেসেই তাঁরা কর্মসূচিতে যাবেন। কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা তাঁরা করেন না। কিন্তু যুবদের অনেকেই পাওয়ার আশাতেই দলে এসেছিলেন। তাঁরা বর্ষীয়ান নেতাদের সম্মান দিতেন না। কথায় কথায় ক্যামাকস্ট্রিটের কথা বলে চমকানোর চেষ্টা করতেন। দল বিপাকে পড়তেই তাঁরা চম্পট দিয়েছেন। যুব তৃণমূল নেতা পিকু ক্ষেত্রপাল বলেন, সেই কলেজ জীবন থেকে সংগঠন করছি। আমরা দলের কর্মসূচিতে যাব। কিন্তু হঠাৎ করে যাঁরা দলে এসে নেতা হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের এখন দেখা মিলছে না। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও বহু আগেই যুব এবং প্রবীণদের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল। কিন্তু যুব নেতাদের মাথার উপর ক্যামাকস্ট্রিট থাকায় তাঁরাই সর্বেরসর্বা হয়ে গিয়েছিলেন।