


নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিয়ে ট্রাইব্যুনালের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট তথ্য তলব করেছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। গড়িমসি নিয়ে ভর্ৎসনা করে কতদিনে নিষ্পত্তি, কমিশনকে সেই প্রশ্নও করেছে শীর্ষ আদালত। তারই মধ্যে এবার দিল্লিতে এসআইআরে নাম বাদ পড়ার সম্ভাব্য বহর ঘিরে প্রশ্ন উঠে গেল। সোমবার দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৭ লক্ষ ৭০ হাজারের নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ দিল্লিতে এদিন প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের নামই নেই। বাদ পড়েছেন প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ভোটার। সরকারি সূত্রেই দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হয়েছে, তার মধ্যে শতাংশের নিরিখে (৩৩ শতাংশ) দিল্লিতেই সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, দেশের রাজধানী হিসাবে দিল্লিতে ফ্লোটিং পপুলেশন’ বা অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা বেশি। এত নাম বাদ পড়ার এটা কারণ হতে পারে। যদিও কমিশনের এই যুক্তিতে চিঁড়ে ভিজছে না। বিষয়টি সামনে আসার পর সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলি। আম আদমি পার্টির (আপ) সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তীব্র আক্রমণ করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর কটাক্ষ, এসআইআর-এর অধীনে দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দেড় কোটি ভোটারের মধ্যে ৪৭ লক্ষ ভোটারের নাম অনুপস্থিত। ভারত সরকার জনসংখ্যা নিয়ে অহেতুক চিন্তিত। এসআইআর-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আমাদের দেশের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি থেকে কমিয়ে ৫০ কোটিতে নামিয়ে আনবে।
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এদিন বলেছেন, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা প্রয়োজনীয় নথি সব ফরম ৬-এর মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবি পেশ করতে পারবেন। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, আপত্তি খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে।
দিল্লিতে এসআইআর-এর অন্তর্গত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছিল ৩০ জুন। ১৭ আগস্ট সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়। তার ভিত্তিতে এদিন নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে ১.৪৫ কোটি ভোটারের মধ্যে নাম রয়েছে ৯৭ লক্ষ ৫০ হাজারের। অর্থাৎ, ৪৭ লক্ষের বেশি নাম খসড়া তালিকায় নেই। শতাংশের বিচারে যা প্রায় ৩৩ শতাংশ। নাম বাদ পড়া এই ভোটারদের স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, মৃত, অনুপস্থিত, ডুপ্লিকেট বা দ্বৈত অন্তর্ভুক্তি এবং ‘অন্যান্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, এই ‘অন্যান্য’ শ্রেণি বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।