


সংবাদদাতা, লালবাগ: পদ্মার জলস্তর বাড়তেই লালগোলার তারানগরে ভাঙন শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে নদীর পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়। বেশ কয়েক বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মাথার উপর ছাদ হারানোর আশঙ্কায় রাতের ঘুম উবেছে।
গত কয়েকদিন ধরে লালগোলা সহ পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার তারানগর সংলগ্ন রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের রাধাকৃষ্ণপুরে নদী ভাঙনে লিচুবাগান নদীগর্ভে চলে যায়। বুধবার তারানগরে ভাঙনে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাকারিয়া শেখ বলেন, দায়সারাভাবে বস্তা দিয়ে বাঁধ দেওয়ার ফলে ভাঙন বাড়ছে। যেভাবে ভাঙন হচ্ছে তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পদ্মা বাড়িঘর গিলে খাবে। আর এক বাসিন্দা কাসেম শেখ বলেন, গত তিন বছর ধরে তারানগরে ভাঙন হচ্ছে। প্রায় দুই শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। চাষের জমি, আম-লিচুর বাগান নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। অথচ প্রতি বছর ভাঙন রোধের নামে প্রহসন চলছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার বিকেলে এলাকায় যান ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক এবং সেচদপ্তরের কর্মীরা। প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশও ছিল। সেচদপ্তর জানিয়েছে, ভাঙন ঠেকাতে আপৎকালীন ভিত্তিতে বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নদীর ঢেউ পাড়ে আছড়ে পড়ায় ভাঙন বেড়েছে বলে দাবি দপ্তরের। তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার সময় সাময়িক কাজ নয়, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করতে হবে।