


রায়পুর: ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলায় ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। এই ঘটনায় এক অধ্যাপক ও পাঁচ পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় বর্ষের বিএসসির এন্টোমোলজির পরীক্ষা ছিল ২০ আগস্ট। তারই প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন অধ্যাপক যোগেশ সঙ্কেশরিয়া। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিসিপি স্মৃতিক রাজনালা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২৮টি কলেজে ওই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার দিন সকাল ৮টা ৪১ এবং সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে কাওয়ার্ধার কলেজে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইমেল আসে। তার জেরেই বিতর্ক দানা বাঁধে। কয়েকজন পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় এন্টোমোলজির প্রশ্নপত্র ঘুরছে। তড়িঘড়ি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। অন্তত ১০০ জন পুলিশকর্মী তল্লাশি অভিযানে নামেন। ভাইরাল প্রশ্নপত্র, মোবাইল স্ক্রিনশট, ছবি ও মেসেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনার মূলচক্রী অধ্যাপক সঙ্কেশরিয়াকে চিহ্নিত করা হয়। দুর্গের ভারতী এগ্রিকালচারাল কলেজে তিনি গত ২০১৯ সাল থেকে চাকরি করছেন। পাশাপাশি গত এক বছর ধরে তিনি রায়পুরের কৃষি কলেজে পরীক্ষার প্রশ্ন আনা ও উত্তরপত্র দিয়ে আসার কাজ করছিলেন। গত ১৭ আগস্ট রায়পুরের জোরা কলেজে উত্তরপত্র জমা দিয়ে আসন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন সঙ্কেশরিয়া। তার মধ্যে অন্টোমোলজির প্রশ্নপত্র ছিল। সেটাই ফাঁস করেন তিনি।
অধ্যাপক সঙ্কেশরিয়া ছাড়াও এই ঘটনায় অজয় নায়েক, ত্রিদেব প্যাটেল, নীতিন পাণ্ডে, অনুজ মিঞ্জ এবং আদিত্য সাহু নামে পাঁচ ছাত্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের থেকে ১১ হাজার টাকা নগদ, ছ’টি মোবাইল ফোন, একটি ভিডিয়ো রেকর্ডিং যন্ত্র, কেবল এবং মোবাইল কানেক্টর উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় আরও দুই পড়ুয়ার নাম জড়িয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।