


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বর্ষায় খানাখন্দ রাস্তায় কাদাজল জমে থাকছে। রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি। নিকাশি নালার জল এলাকা থেকে বার হচ্ছেনা। বাড়ির ভিতর জল ঢুকে পড়ছে । দেওয়াল ধসে পড়ছে। জল জমা গর্তের মধ্যে পড়ে বয়স্ক ও শিশুরা নিত্যদিন জখম হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নৃপেন পল্লির বাসিন্দারা পুরসভার বেহাল পরিষেবা নিয়ে প্রকশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন
ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ নির্বাচনের পরেই এলাকায় গিয়েছিলেন। বাসিন্দারা বেহাল রাস্তা সংস্কার ও পাকা ড্রেনের দাবি জানিয়েছিলেন। রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।বিধায়ক দিন কয়েক আগেই শহরের ৭৯ টি রাস্তা সংস্কার হবে বলে জানান। সেইসব রাস্তার তালিকাও দেওয়া হয়। দেখা যায়তালিকায় ১২ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাটির নাম নেই।স্থানীয় বাসিন্দারা যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডটি অবহেলিত। এলাকার পাকা ড্রেন নেই। পথবাতি কখনো জ্বলে, কখনো আবার জ্বলেনা। এলাকার ১০-১৫ টি পরিবারকে বর্ষার সময় রাস্তার কাদাজল পেরিয়ে প্রধান সড়কে উঠতে হচ্ছে। জল জমে রাস্তার ছোট বড় গর্তের অবস্থান বোঝা যায় না। বয়স্ক ও শিশুরা পড়ে গিয়ে নিত্যদিন জখম হচ্ছে। এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির কাজে লরি,ডাম্পার ঢুকছে। জলকাদায় ভরা রাস্তাটির অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকায় মশা মাছির উপদ্রব বেড়ে গিয়েছে।পুরসভার পুর বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর এলাকার সমস্যার কথা কাকে জানাবেন বুঝতে পারছেন না। পুরসভার দায়িত্বে রয়েছেন মহকুমা শাসক। অনেকেই কখনো পুরসভা ও মহকুমা শাসকের দপ্তরে দৌড়াচ্ছেন। পুরসভায় গেলে মহকুমা শাসককের দপ্তরে যেতে বলা হচ্ছে। মহকুমা শাসকের দপ্তরে গেলে মহকুমা শাসকের দেখা পাচ্ছেন না। অনেকে বিধায়কের সমাজ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টের টাইমলাইন এলাকার সমস্যার কথাও জানাচ্ছেন।কাজ না হওয়ায় বাসিন্দাদের অসন্তোষ বাড়ছে। ওয়ার্ডের বা সিন্দা পুজো মাহাত বলেন, নৃপেণপল্লীর রাস্তা বহু বছর ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। পুরসভাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।নির্বাচন পর বিধায়ক এলে সম্বর্ধনা দিতে গিয়ছিলাম। তখন তখন রাস্তার জন্য দরখাস্ত প দিতে চেয়েছিলাম। রাস্তা হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন দেখছি রাস্তার তালিকা বেরিয়ে গিয়েছে। টেন্ডার হয়ে গিয়েছে।তালিকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার উল্লে নেই। অপর বাসিন্দা জ্যোস্না দেশওয়ালী বলেন, রাস্তার খারাপের জেরে এলাকায় টোটো ঢুকছেনা। ছোট ছোট বাচ্চারা পড়ে গিয়ে জখম হচ্ছে। রাস্তার দ্রুত সংস্কার ও পাকা ড্রেনের দাবি জানাচ্ছি। অপর এক বাসিন্দা বলে ন, স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা নিয়মিত বাড়িতে বাড়িতে এসে জল জমে আছে কিনা দেখতে। জ্বর হয়েছে কিনা তার খোঁজ খবর করছে। এদিকে এলাকাজুড়ে জল জমে রয়েছে।জেলা মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন,তালিকায় রাস্তার উল্লেখ না থাকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।-নিজস্ব চিত্র