


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কেন্দ্রে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার জল্পনা আরও বাড়ল। কারণ রাজ্যসভার সাংসদ শমীকবাবুর সিট নম্বর তাৎপর্যপূর্ণভাবে এগিয়েছে। এতদিন রাজ্যসভার ১১৬ নং আসনটি বরাদ্দ ছিল শমীকবাবুর জন্য। তা ছিল সংসদের উচ্চ কক্ষে একেবারে পিছনের সারিতে। সোমবার বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, দলের রাজ্য সভাপতির আসন সংখ্যা ১১৬ থেকে এগিয়ে করা হয়েছে ২৮। অর্থাৎ, প্রথম দিকের সারিতেই। একে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল। কারণ প্রথম দিকের সারির এইসব আসন রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রের শীর্ষস্তরের নেতামন্ত্রীদের জন্যই তা বরাদ্দ হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে চর্চা চলছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী বালুরঘাটের সাংসদ ডঃ সুকান্ত মজুমদার ‘পদোন্নতি’ পেয়ে কেন্দ্রে পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। একইভাবে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয়ের পুরস্কার হিসাবে শমীকবাবুকেও কেন্দ্রে পূর্ণমন্ত্রী করা হতে পারে বলে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। মনে করা হচ্ছে যে, এই অধিবেশন পর্ব মিটলেই মন্ত্রিসভার পরিবর্তন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমন প্রেক্ষাপটে তাই রাজ্যসভায় শমীকবাবুর সিট নম্বর এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টি লক্ষণীয় বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এপ্রসঙ্গে শমীকবাবু কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, সোমবার রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ হিসাবে শপথ নেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক। সুখেন্দুবাবু এবং সুস্মিতা দু’জনেই শপথ নিয়েছেন বাংলা ভাষায়। ধুতি-পাঞ্জাবিতে পুরোদস্তুর বাঙালি পরিধানেই সোমবার রাজ্যসভায় শপথ নিয়েছেন সুখেন্দুবাবু। প্রকাশচিক বরাইক শপথ নিয়েছেন হিন্দিতে। তৃণমূলের এই তিনজন প্রাক্তন সাংসদের এদিন বিজেপি এমপি হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় বিরোধী বেঞ্চ থেকে কটাক্ষ উড়ে আসে। যদিও তা পাত্তাই দেননি সুখেন্দুবাবুরা। এদিন রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ হিসাবে শপথ নেওয়ার পরই রাজ্যের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছেন সুখেন্দুবাবু।
তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা স্বাস্থ্যদপ্তরের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে ফরেনসিক অডিট হওয়া দরকার। অভয়াকে মরতে হল কেন? তিনি জাল ওষুধ সহ বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে সরব হতে চেয়েছিলেন।’ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে যাওয়া প্রসঙ্গে সুখেন্দুবাবু বলেন, ‘ইসরোর পাঠানো উপগ্রহ চিত্র ও বিভিন্ন কমিটি রিপোর্টের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তৃণমূল সরকারের দাবি আগে মিলিয়ে দেখেছে কেন্দ্র। তারপরই টাকা বন্ধ হয়েছে। যত টাকা পেয়েছে, তার হিসাবও দেওয়া হয়নি।’ মমতার আমলে নাচগানে শহিদ দিবস পালনেরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘আমি দায়ে পড়ে যেতাম।’