


দীর্ঘ পরিকল্পনার পর অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ঘুরতে গিয়েছেন। কিংবা পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরিয়েছেন। হঠাৎ শুরু হল দাঁতে ব্যথা। কীভাবে মিলবে মুক্তি? জানালেন কল্যাণী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল সার্জেন ডাঃ শুকদেব মণ্ডল।
উপসর্গ ও কারণ
দাঁতে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। যদি দীর্ঘদিন যত্ন না নেওয়া হয়, তাহলে দাঁতে একাধিক অসুখ বাসা বাঁধে। আর সেগুলিই ধীরে ধীরে গুরুতর আকার নেয়। তবে বাইরে বেরলে অনেক সময় ঠান্ডা বাতাস, কড়া রোদ বা তাপমাত্রার বড়োসড়ো পরিবর্তনের জেরে দাঁতে ব্যথা, সংবেদনশীলতা অর্থাৎ সেন্সিভিটির বিষয়টি মাথাচাড়া দেয়।
এনামেল ক্ষয় বা মাড়ি নীচে নেমে গেলে দাঁতের ভেতরের অংশ উন্মুক্ত হয়। সেখানে ঠান্ডা বাতাস লাগলেই ব্যথা করে। দাঁতে ছোটো ফাটল বা ক্যারিজ থাকলে আবহাওয়ার পরিবর্তনে তা সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
ঠান্ডা বাতাসের জেরে সাইনাসের উপর চাপ পড়লে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও আক্কেল দাঁতের সমস্যা, মাড়িতে সংক্রমণ, মুখ বা গাল ফুলে যাওয়া, মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, দাঁতের ফোড়া সহ বিভিন্ন ধরনের অসুখ রয়েছে। তালিকা দীর্ঘ।
প্রতিকার
এক্ষেত্রে কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। বাইরে বিপদে পড়লে, ডাক্তার না পেলে সাময়িক স্বস্তি পেতে কয়েকটি টোটকা বেশ কাজে দেয়।
দাঁতের ব্যথা কমাতে হাইড্রোজেন পারক্সাইড নির্দিষ্ট পরিমাণে জলের সঙ্গে মিশিয়ে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মুখ ও মাড়ির ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং ফোলাভাব কমায়।কুলকুচি করার পর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। গিলে ফেললে চলবে না।
হালকা গরম জলে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা যেতে পারে। ব্যথার জায়গায় লবঙ্গ বা লবঙ্গ তেল ব্যবহার করা যায়। লবঙ্গ তেল তুলো দিয়ে লাগিয়ে রাখুন। এতে অনেকটা আরাম মেলে।
মুখের বাইরে চোয়ালের বা গালের পাশে আইস প্যাক দেওয়া যেতে পারে। খুব ঠান্ডা, খুব গরম খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। ব্যথার দাঁত দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া যাবে না। সঠিক টুথপেস্ট নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
দাঁতের ফোড়া বা ডেন্টাল অ্যাবসেস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জেরে হয়। দাঁতের গোড়ায় মাড়িতে পুঁজ জমে ফুলে যেতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে চোয়ালের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে বিপদে এই ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।
একটা কথা মাথায় রাখতে হবে দাঁতের ভিতরে কিন্তু কলা, স্নায়ু ও রক্তনালির যোগ রয়েছে। তাই ব্রাশ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। লাল -ফোলা মাড়ি, ব্রাশ করার সময় রক্তপাতের মতো সমস্যা থাকলে দীর্ঘদিন অবহেলা করা যাবে না। এগুলি বিপদে ফেলতে পারে।
পরামর্শ
তড়িঘড়ি ডাক্তার না পেলে ব্যথা উপশমের দু-একটি ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। চিকিৎসকের কাছে যেতেই হবে। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি বাকি কাজ করতে হবে।
সর্বোপরি, সচেতন থাকা জরুরি। অযত্ন আর অবহেলা বড়ো সমস্যা ডেকে আনতে পারে।
লিখেছেন শোভন চন্দ