


নয়াদিল্লি: আদালত কোনো ২৪ ঘণ্টার বিনোদনের চ্যানেল নয়। যথাযথ অনুমতি ছাড়া শুনানির অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ডিং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা যাবে না। কোর্টরুমের ফুটেজ যত্রতত্র শেয়ার করা যাবে না। এক জনস্বার্থ মামলায় শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই নির্দেশের জেরে আদালতের কার্যবিবরণী সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না। এটিকে বাকস্বাধীনতার উপর কোনো দমনমূলক আদেশ হিসাবে মনে করলে চলবে না।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, আদালতে শুনানির কিছু অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এতে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার উপর আমজনতার বিশ্বাস নষ্ট হচ্ছে। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলের অনুমতি ছাড়া শুনানির অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ডিং সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট, রি-পোস্ট, আপলোড, প্রচার করা যাবে না। ভিডিয়োগুলি মডিফাই করা যাবে না। এমনকি অর্থ উপার্জনেও তা ব্যবহার করা যাবে না। বিচারপতি বাগচির বক্তব্য, এক্ষেত্রে কোর্টরুমের লাইভস্ট্রিমিংও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষ দেখতে চাইলে, নির্দিষ্ট অনুমতির ভিত্তিতে ফুটেজ দেখানো হবে। শুনানির অডিয়ো-ভিডিয়োয় ভরে গিয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। আইনজীবীরা কীভাবে সওয়াল করছেন, তাও দেখানো হচ্ছে। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তা শোনার পর বিচারপতি বাগচির মন্তব্য, যা হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, তা আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তবে এখন থেকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।