


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে গরমে পুড়ছে ইউরোপ। যা থেকে রেহাই পায়নি ইংল্যান্ডও। কার্যত খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইংল্যান্ডে। একের পর এক ‘হিটওয়েভ’ ও স্বল্প বৃষ্টিপাতের ফলে নদী, জলাধার ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে। এহেন খরা পরিস্থিতির জেরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত জলের পরিমাণ যতটা সম্ভব কমানোর জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়ে প্রচার শুরু করেছে জল সরবরাহকারী সংস্থাগুলি। ওফওয়াট’স ইনোভেশন ফান্ড নামে এমনই একটি সংস্থার উদ্যোগে ২ লক্ষ ৭০ হাজার পাউন্ডের জল সংরক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে ইংল্যান্ডে বসবাসকারী ভারতীয় এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলি যাতে চাল ধোয়ার জন্য কম জল ব্যবহার করে, তার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। পাঁচ-সাতবার চাল না ধুয়ে যাতে দু’বার চাল ধুয়েই রান্না করা হয়, তার জন্য ওই পরিবারগুলির কাছে আবেদন করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, যদি এই পদ্ধতি মানা হয়, তাহলে প্রতিবার ভাত রান্না করার সময় পাঁচ লিটার পর্যন্ত জল বাঁচানো সম্ভব। এছাড়া চাল ধোয়া জল গাছে দেওয়ার জন্যও উত্সাহ দেওয়া হচ্ছে। সেলেব্রিটি শেফ পিং কুম্বেসও এই প্রচারে অংশ নিয়েছে। কীভাবে দু’বার চাল ধুয়ে রান্না করতে হবে এবং চাল ধোয়া জল কীভাবে ফের ব্যবহার করা সম্ভব, তার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে, মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা হাত-পা ধুয়ে মসজিদে নামাজ পড়েন। তার জন্য মসজিদগুলিতে খোলা ট্যাপে জলের ব্যবস্থা থাকে। তাতে প্রতি মিনিটে কয়েক লিটার জল খরচ হয়। প্রার্থনার আগে ট্যাপের জলের বদলে যাতে এক লিটার জগের জল ব্যবহার করা হয়, তার জন্যও প্রচার চলছে। যদিও এই বিষয়টিকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির উপর হস্তক্ষেপ বলে পালটা সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, জল সংরক্ষণের দায়িত্ব শুধুমাত্র সাধারণ নাগরিকের হতে পারে না। জল সরবরাহকারী সংস্থাগুলির পাইপ লাইনে লিক সারাই ও পরিকাঠামো সংস্কারের উপর জোর দেওয়া উচিত। পুরানো ভাঙা পাইপের কারণে প্রতিদিন প্রচুর পরিস্রুত জল নষ্ট হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।