


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত হওয়াটাই শেষ কথা নয়! এবার লক্ষ্য, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ গ্রাহককে পৌঁছে দেওয়া। এর জন্য চলতি বছর থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন। সম্প্রতি ভারত রিনিউয়েবল এনার্জি সামিটে যোগ দেয় রাজ্য। দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ। তাঁর বার্তা, এরাজ্যে বিনিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়াতে প্রস্তুত। বিদ্যুৎ বা শক্তিক্ষেত্রে লগ্নিকে স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা।
‘দি এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট’ বা টেরির রোডম্যাপ বলছে, ২০২৬ সালের ১৭ গিগাওয়াট থেকে ২০৪৭ সালে বাংলার বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে হবে ১৪৫ গিগাওয়াট। এর ৮৫ শতাংশই হবে পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি। সৌরশক্তিই হবে প্রধান ভরসা। সৌর ক্ষমতা ১.২৫ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ১২০ গিগাওয়াট হবে। মোট উৎপাদন ৯৪.৭ টেরাওয়াট ঘণ্টা থেকে বেড়ে ২৭৫ টেরাওয়াট ঘণ্টা হবে, যার ৮২ শতাংশ আসবে সৌর ও পারমাণবিক শক্তি থেকে। কয়লা থেকে উৎপাদন কমে ৪১ টেরাওয়াট ঘণ্টায় নামবে। সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৩.৬ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৪৫.৮৮ গিগাওয়াট হবে। এই চাহিদা সামলাতে ব্যাটারি স্টোরেজ ক্ষমতা ১ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ২২ গিগাওয়াট করা হবে। এই পুরো রূপান্তরের জন্য ২০২৬ থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার লগ্নি দরকার রাজ্যে। ইতিমধ্যে শালবনিতে ৩.২ গিগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ, দুর্গাপুর ও গোয়ালতোড়ে ৫০০ মেগাওয়াট ব্যাটারি স্টোরেজ এবং গোয়ালতোড় ও বক্রেশ্বরে ৪১২.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা রয়েছে। টেরির বক্তব্য, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রিড পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগ একসঙ্গে এগিয়ে চললেই নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং সুষ্ঠু বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। মন্ত্রী গার্গীদেবী বলেন, ‘আমরা দিল্লিতে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ করেছি, তাঁরা বিদ্যুৎক্ষেত্রে লগ্নি করতে বাংলায় আসুন। তাঁদের যা কিছু প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।’