


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আর মাসদুয়েক পর দুর্গাপুজো। তারপর একের পর এক উৎসব। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়েই দূরপাল্লার বিভিন্ন ট্রেনে কনফার্মড টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। অনলাইন বুকিংয়ের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘রিগ্রেট’ কিংবা ‘নো রুম’ বার্তা পাচ্ছেন রেল যাত্রীদের বড়ো অংশ। এই পরিস্থিতিতে ‘ডিজিটাল দালালরাজে’র পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষকে চিন্তায় ফেলেছে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক কালোবাজারি। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই একজনের টিকিটে যাত্রা করছেন অন্য কেউ। একই ‘জেন্ডার’ এবং প্রায় সমবয়সি যাত্রীদের মধ্যে এমন লেনদেন হচ্ছে সবথেকে বেশি। দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেসের সাধারণ স্লিপার ক্লাস এবং থ্রি টিয়ার এসি কোচের যাত্রীদের একাংশই এমন অবৈধ কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছেন। এই প্রেক্ষাপটে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে টিটিইদের ভূমিকা। যাত্রীদের বড়ো অংশের অভিযোগ, ভিড় বেশি হলে অনেক সময় টিটিইরা পরিচয়পত্র না যাচাই করে শুধুমাত্র টিকিট দেখেই ছেড়ে দিচ্ছেন। এহেন সুযোগেরই সদ্বব্যবহার করছে অসাধু যাত্রীদের একাংশ।
জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন টেলিগ্রাম এবং হোয়াটস গ্রুপের মাধ্যমে এমন কালোবাজারি চলছে। একজন যাত্রী হয়তো দূরপাল্লার কোনো রুটে এক বা একাধিক টিকিট কেটেছেন। এবার নির্দিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলিতে ওই যাত্রী টিকিটের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট রুটে যিনি কোনোভাবেই টিকিট কাটতে পারছেন না, সেই যাত্রী কিছু বেশি টাকা দিয়ে ওই টিকিট জোগাড় করে নিচ্ছেন। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ‘ব্ল্যাক’ হচ্ছে ট্রেনের টিকিট। এমনই অভিযোগ এসেছে রেলের কাছে। সেইমতো বিভিন্ন হোয়াটস অ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের উপর নজর রাখছে রেল কর্তৃপক্ষ।
পুজোর আগে ট্রেনে ট্রেনে আচমকা নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে রেল। যদিও তাতে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। যাত্রীদের বড়ো অংশের প্রশ্ন, প্রতি বছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে কেন? বিভিন্ন সময় পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নের যে দাবি রেল করে, তা কি শুধুই কাগজে-কলমে আটকে থাকছে!