


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী সুন্দরবনের একটি বদ্বীপ। মাতলা আর বিদ্যাধরী ঘেরা নদী অঞ্চল। কলকাতা থেকে কম করে ১০০ কিমি দূরে। সেখানকার ফুলমালঞ্চ ঋতুভকত হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে সেলিমা মোল্লা নামে একটি মেয়ে। সে এমন একটি প্রবন্ধ লিখেছে ইংরেজিতে, যেটি পড়ে তাক লেগে গিয়েছে দিল্লির বড়ো কর্তাদের। তারা সেলিমাকে দিল্লি যেতে লিখেছে। লালকেল্লাতে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সুন্দরবনের মতো প্রান্তিক একটি জায়গার কাছে বিষয়টি চমকের থেকেও বেশি কিছু। সেখানকার বহু মানুষ অন্যের মুখেই শুধু দিল্লির কথা শুনে এসেছেন এতদিন। সেই বাসন্তীর সেলিমা মোল্লাকে ডেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার! ঘটনার অভিনবত্ব চমকে দিয়েছে পশ্চিবঙ্গের প্রান্তপ্রদেশের একটি বিস্তীর্ণ জনপদকে। কেন্দ্র সরকার বিকশিত ভারতের উপর প্রবন্ধ লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। তাতে অনেকে অংশ নেয়। অংশ দিয়েছিল সেলিমাও। তারপর ইংরেজিতে একটি রচনা লেখে। সেটা জমা দেয়। সে লেখার মান এতটাই উৎকৃষ্ট যে, পড়ে মুগ্ধ হয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। তারপরই দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানায়। তবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবে কি সেলিমা? এই নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, মেয়েটির পরিবার খুব গরিব। এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে রাজধানীতে যাওয়া আসা ও থাকা সহ অন্যান্য খরচ বহন খুব কঠিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢুকতে লাগবে বিশেষ পাস। সেটি সেলিমার মোবাইলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সময়ে সেটা পাঠাতে না পারার জন্য যাওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
খড়ের চালের বাড়ি সেলিমাদের। বাবা দিনমজুর। কার্যত নুন আনতে পান্তা ফুরনো অবস্থা। এরকম একটি পরিবারের পক্ষে ট্রেনে চেপে দিল্লি যাওয়া স্রেফ স্বপ্ন। সুন্দরবনের মানুষ কল্পনাতেও সে স্বপ্ন দেখে না। তবুও মেয়ের সাফল্য উদ্বুদ্ধ করেছে সেলিমার মা-বাবাকে। আর্থিক বাধা কাটিয়ে কোনোভাবেও যদি দিল্লি পাঠানো যায়, যদি একবার স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারে মেয়ে, তার জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না পরিবারটি। বৃহস্পতিবার ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিল সেলিমার মা রেহেনা মোল্লা। কিন্তু সেভাবে আশ্বাস পাননি। উলটে স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে বলে রেহেনা জানালেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না। প্রধান শিক্ষক অম্বরীশকুমার দত্ত বলেন, ‘সেলিমার এই সাফল্য আমাদের শুধু নয় গোটা সুন্দরবনের গর্বের বিষয়। ওর দিল্লি যাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কথাবার্তা বলা হয়েছে।’