


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হিমঘরে মজুত রাখা আলুর দাম ক্রমাগত কমছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আলোচনায় বসতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে চিঠি দিল পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এবার হিমঘরে আলু বেশি পরিমাণে সংরক্ষিত হয়েছে। নতুন আলু ওঠার সময়েই দাম কম ছিল। পরে বেশি দাম মিলবে, এই আশায় চাষিরা বেশিরভাগ আলু হিমঘরে রেখেছিলেন। কিন্ত দাম তো বাড়ছে না, বরং দিনে দিনে তা কমে যাচ্ছে। সমিতির সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে ৫০ কেজি জ্যোতি আলুর বস্তার প্রতিটি বন্ডের দাম ছিল ২০০ টাকা। তা এখন ১৫০ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, কেজিতে মাত্র ৩ টাকা! হিমঘরের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ দিয়ে আলু বার করলে কেজিতে ৭ টাকা মতো দাম পাওয়া যাচ্ছে। চাষিরা মূলত বন্ড বিক্রি করে দেন ব্যবসায়ীদের। যদিও দু’টি ক্ষেত্রেই বিপুল লোকসান হচ্ছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরেই কৃষি বিপণন মন্ত্রীর সঙ্গে আলু ব্যবসায়ী সংগঠন, হিমঘর মালিকদের বৈঠক হয়। সেখানে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো বা হিমঘর ভাড়ায় কিছুটা সরকারি ভরতুকি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সমিতির বক্তব্য, এবার অনুকূল আবহাওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশেই আলুর প্রচুর ফলন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হিমঘরগুলিতে রেকর্ড পরিমাণ, ৮০ লক্ষ টন আলু মজুত আছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৩ লক্ষ টন মতো হিমঘর থেকে বেরিয়েছে। ভিন রাজ্যে চাহিদা কম থাকার জন্য আলু কম বেরচ্ছে। পরিবহণ খরচ বা হিমঘর ভাড়ায় ভরতুকি পেলে কিছুটা কম দামে আলু পাঠিয়ে ভিন রাজ্যের বাজার পাওয়া যেতে পারে।