


নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনায় ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই হারে শুল্ক বসানো যাবে চীন সহ আরও চারটি দেশের উপরেও। এই সংক্রান্ত একটি বিলে ছাড়পত্র দিয়েছে মার্কিন সেনেট। বিলটি আইনে পরিণত হলে ভারত ও বাকি চারটি দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ক্ষেত্রে ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনে এমন প্রথম পাঁচটি দেশের উপর এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে, যে সব দেশ রাশিয়া থেকে ১৫ শতাংশের কম প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এবং আমদানি কমানোর জন্য পদক্ষেপ করছে—সেই সব দেশগুলির জন্য বিলে ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেনেটে বিলটির পক্ষে ৮৬টি এবং বিপক্ষে ১১টি ভোট পড়ে। প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিষয়ে বারবার সওয়াল করেছিলেন গ্রাহাম। তাঁর বোন তথা সেনেটর ডারলিন গ্রাহাম জানান, এই বিল সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আঘাত করবে। আপনি ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।’
বিলটি আইনে পরিণত হলে বিশ্বের তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে এমনিতেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ধাক্কা খেয়েছে। এরপরে যদি রুশ তেলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, তাহলে সংকট আরও বাড়বে। ভারতে যত পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, তার ৮৮ শতাংশই আমদানি করা হয়। আর সেই আমদানির অর্ধেকই রাশিয়ার তেল। ফলে ভারতের মাথাব্যথা বাড়তে চলেছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে, মার্কিন সেনেটে এই বিল পাশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ভারতকে আমেরিকার কাছে বিকিয়ে দেওয়া, ট্রাম্পের দাসত্ব স্বীকার এবং অপদস্থ করানোর পর মোদি দেশের জন্য এই পরিস্থিতি ডেকে এনেছেন। আজ ভারতের প্রতিটি যে কোনো সিদ্ধান্তে ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করছেন।’ কেজরির আরও দাবি, ট্রাম্প ঠিক-ভুল যাই বলেন, মোদি তাতেই রাজি হন।