


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীপুজো ও দীপাবলির জন্য এবার তৈরি হল ৬০ কোটির বেশি মাটির প্রদীপ। কলকাতার বিভিন্ন ভাটিতে তৈরি হওয়া এই প্রদীপ ইতিমধ্যে কলকাতা ও তার আশপাশের জেলা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও পাড়ি দিয়েছে। শনিবার শহরের বিভিন্ন ভাটির সূত্রে একথা জানা গিয়েছে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত প্রদীপ তৈরির কাজ চলছে। আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রদীপ তৈরির কাজ। ফলে শহরের বিভিন্ন ভাটিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। নাওয়া‑খাওয়া ভুলে চলছে প্রদীপ তৈরির কাজ। ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহনলাল প্রজাপতি বলেন, ‘গত বছর কালীপুজো, দীপাবলিকে ঘিরে প্রায় ৫০ কোটি মাটির প্রদীপ তৈরি করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাটা বেড়েছে প্রায় ১০ কোটি।’ তিনি বলেন, ‘মাটির প্রদীপের চাহিদা বাড়ার কারণে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন দুটো টাকার মুখ দেখতে পাচ্ছেন। সংসার, পরিবার পরিজন নিয়ে কিছুটা হলেও ভালো থাকতে পারবেন তাঁরা। আমরাও খুশি।’
কুম্ভকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত লোকজনেদের কথায়, যতদিন যাচ্ছে, প্রদীপে আসছে নিত্যনতুন ডিজাইন। ফলে এখন শুধুমাত্র ছোটো প্রদীপই তৈরি হয় না, তার সঙ্গে বিভিন্ন সাইজের দৃষ্টিনন্দন নানা ধরনের প্রদীপ তৈরি হয়। বাজারে এগুলির ভালো চাহিদা রয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁরাও নানা ডিজাইনের প্রদীপ তৈরি করে জোগান দিচ্ছেন। কলকাতার কসবা, চিৎপুর, মুরারিপুকুর, মানিকতলা, কাঁকুড়গাছি, দক্ষিণদাড়ি , উল্টোডাঙা প্রভৃতি অঞ্চলের ভাটিতে তৈরি এই প্রদীপ এখন কলকাতার বাজারেই বিক্রি হচ্ছে দেদার। শহরের বিভিন্ন দশকর্মা ভাণ্ডার ছাড়াও এই প্রদীপ অন্যান্য দোকানে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণি ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা গেল, মানুষ রীতিমতো লাইন দিয়ে প্রদীপ কিনছেন। কেউ ৫০টা, কেউ ১০০। অনেকে আবার অনেক বেশি সংখ্যক প্রদীপের বরাত দিয়ে যাচ্ছেন। প্রদীপ শিল্পীদের বক্তব্য, এবার বৃষ্টির কারণে ভাটিতে প্রদীপ শুকনো করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। ফলে কিছু কিছু জায়গায় প্রদীপ পৌঁছাতে দেরি হয়ে গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে, এটাই বড়ো সন্তোষের বিষয়।