


সংবাদদাতা, বনগাঁ: আগামী বাজেটে ঠাকুরনগর পুরসভা হিসাবে ঘোষিত হবে। রবিবার মতুয়াদের এক অনুষ্ঠানে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে এসে একথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি। আগামী বাজেটে ঠাকুরনগর পুরসভা হিসাবে ঘোষিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ঠাকুরনগরের বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুরসভা হিসাবে ঘোষণার প্রতিশ্রুতিতে বাসিন্দারা খুশি হলেও বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, পুরসভা হলে সমস্ত কর বাড়বে। ফলে নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে বাড়তি খরচের বোঝা চেপে যাবে।
ওই অনুষ্ঠানে না গেলেও বাজারে নিজের দোকানে বসে তাঁর ঘোষণা শুনেছেন ব্যবসায়ী তাপস রায়। পুরসভা হওয়া প্রসঙ্গে তাপসবাবু বলেন, পুরসভা হলে তো ভালোই হবে। অন্তত শহরটা পরিষ্কার থাকবে। রাস্তার পাশে জড়ো করা জঞ্জাল দেখিয়ে তিনি বলেন, পুরসভা হলে রাস্তায় এভাবে নোংরা থাকবে না। অলিগলিতে আলো থাকবে। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে যাবে। আর এক বাসিন্দা অনিমা বিশ্বাস বলেন, পুরসভা ঘোষণা হওয়া দরকার। নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত না হলে জমা জলের সমস্যার সমাধান হবে না। পুরসভা হলে নিকাশিনালা তৈরি হবে।
পুরসভা ঘোষণার প্রতিশ্রুতিতে আনন্দের মধ্যেও একাংশের মানুষের মধ্যে বাড়তি খরচের আতঙ্ক কাজ করছে। তাঁদের মতে, পুরসভা ঘোষণা হলে সম্পত্তি কর থেকে শুরু করে সমস্ত কর বাড়বে। জল কর, জঞ্জাল করের বোঝা চাপলে সাধারণ মানুষের কাছে সেটা বাড়তি চাপ হয়ে উঠবে। তাঁদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে সব কিছুরই দাম বাড়বে। তবুও বাসিন্দাদের দাবি, এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পুরসভা হিসাবে ঘোষণা হোক ঠাকুরনগর।
এদিন মতুয়া সাধু গোঁসাই সম্মেলনে ঠাকুরবাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে মতুয়া ভক্তরা আসেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি মতুয়াদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা এনে দেয়। ডঙ্কা, কাঁসরে মেতে ওঠেন ভক্তরা।